রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলবে: পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের

অনলাইন ডেস্ক

প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিদায় নেওয়ার দুই দিন আগে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার ‘আইন সংশোধনের’— আলোচিত মামলার রায় দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল। আর এ রায়ে সংশোধিত আইনের কিছু ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করে সেগুলো বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।

গত বছর পাকিস্তানের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (ন্যাব) আইনে সংশোধনী আনা হয়।

আইন সংশোধনের পর সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়।
এরপর গত বছরের জুনে এই আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার সেই পিটিশনের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার আইনের সংশোধিত ধারাগুলো বাতিল করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ।
জিওর খবরে বলা হয়েছে, সংশোধনী ধারা বাতিল করে দেওয়ার অর্থ হলো— পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল এবং যেগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল— সেগুলো আবারও দুর্নীতি বিরোধী আদালতে ফিরে যাবে। আর এরমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ-এন এর নওয়াজ শরীফ, পিপিপির সহ-সভাপতি আসিফ আলী জারদারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো সচল হবে।

খবর অনুসারে, তিন বিচারপতির মধ্যে একজন সংশোধিত আইনের ধারা বাতিল করে দেওয়ার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু দুইজন পক্ষে রায় দেওয়ায় এটি বাতিল হয়ে গেছে।

আদালত তার রায়ে বলেছেন, আইন পরিবর্তন করার পর যেসব মামলা বাতিল করা হয়েছে সেগুলো আবারও পুনর্স্থাপন করতে হবে, সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল সেগুলোও আবার শুরু করতে হবে।

এছাড়া ৫০০ মিলিয়ন রুপির কম যেসব দুর্নীতি মামলা বাতিল করা দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও আবার সক্রিয় করতে হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এসব মামলা দুর্নীতি বিরোধী আদালতে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আইন সংশোধনের পর যেসব মামলার রায় দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও বাতিল করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।সূত্র: ডন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights