রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই শিরোইল বাস টার্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ বিকল্প উপায়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহীর নওদাপাড়া ও শিরোইল বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারগুলো খোলা থাকলেও কোনো বাস ছাড়ছে না। যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে টিকিট কিনতে আসা যাত্রীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুরগামী যাত্রী হালিমা বেগম (৫৫) বলেন, তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। তার সঙ্গে দুটি ছোট শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, এই ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কীভাবে ঢাকায় যাব? বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। আবার নওগাঁয় ফিরতেও অনেক কষ্ট হবে।

জেলার বাগমারা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিরোইল বাস টার্মিনালে আসেন রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আগে জানতাম না বাস চলাচল বন্ধ। কাউন্টারে এসে বিষয়টি জানতে পারলাম। এখন উপায় নেই, বাড়ি ফিরে যেতে হবে। বাস কখন চলাচল শুরু হবে, সেটিও কেউ বলতে পারছে না। তাই রাতে ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাওয়ার চেষ্টা করব।

এর আগে, সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

শিরোইলের একতা ট্রাভেলসের বুকিং সহকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনায় বসেছেন। আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights