রাজশাহীর বিএনপি জামায়াতের ১২ প্রার্থীর পাঁচজনই কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতের ১২ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপির চারজন ও জামায়াতের একজন কোটিপতি রয়েছেন। তবে বিএনপির ও জামায়াতের দুই কোটিপতি প্রার্থীও নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করতে ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া বিএনপির ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজন এবং জামায়াতের ছয় প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে অনুদান গ্রহণ করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের প্রার্থীদের হলফনামার বিবরণী থেকে এখানে আসনওয়ারি মোট সম্পদ ও নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের তথ্য তুলে ধরা হলো।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। তাঁর সম্পদ আছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার টাকার। তিনি নিজস্ব আয় থেকে ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তাঁর সম্পদ ৩৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা নিজের। বাকি টাকা ভাই-বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নেবেন।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তাঁর সম্পদ আছে ৯৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের টাকা থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ। বাকি ১৫ লাখ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অনুদান নেবেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তাঁর মোট সম্পদ ২ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২৭ লাখ। এর মধ্যে ভোট করতে তিনি নিজের ১০ লাখ টাকা খরচ করবেন। বাকি অনুদান নিয়ে খরচ করবেন। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন। তাঁর সম্পদ ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩০ লাখ নিজের বাকি সংগ্রহ করবেন ঋণ ও অনুদান হিসেবে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। তাঁর সম্পদ ৪১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২৫ লাখ। এর মধ্যে নিজের থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা, বাকিটা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করবেন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান। তাঁর মোট সম্পদ ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ৩১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে নিজের থেকে খরচ করবেন ১২ লাখ, বাকিটা অনুদান হিসেবে পাবেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবদুল বারী। তাঁর সম্পদ ১ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। তিনি নিজের থেকেই পুরো নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন বলে জানিয়েছেন। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তাঁর সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ৩৫ লাখ টাকা। তিনি নিজের টাকা থেকেই পুরো নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমান। তাঁর সম্পদ ৫৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের থেকে খরচ করবেন ৫ লাখ, ঋণ করবেন ১০ লাখ। বাকি ৭ লাখ পাবেন দান হিসেবে। রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ। তাঁর সম্পদ আছে ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের থেকে ভোটে খরচ করবেন ৪ লাখ। বাকি সংগ্রহ করবেন ঋণ ও অনুদান নিয়ে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হকের সম্পদ ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য খরচ দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে তাঁর নিজের ৫ লাখ। ঋণ করবেন ৬ লাখ। অনুদান নেবেন ১৪ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights