রাস উৎসব ও গঙ্গাস্নানের জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পুণ্য লাভের আশায় পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগরে নীল জলে স্নান করবেন। পঞ্জিকা মতে, সেই পূর্ণিমা শুরু হবে বৃহস্পতিবার শেষ রাত ৫টা ৪৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে। আর থাকবে পরদিন শুক্রবার রাত ৩টা ৩২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড পর্যন্ত। ধুয়ে মুছে যাবে জাগতিক পাপ, এমন বিশ্বাসে প্রতি বছরের ন্যায় পূর্ণিমা তিথিতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্নান করবেন হাজারো পুণ্যার্থী। অনেকেই আবার ভিন্ন ভিন্ন মানত করা পূজা দেবেন পুরোহিত এনে। এ উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্ন্যাসীসহ নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষও মিলিত হবেন। এ উপলক্ষ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজ সজ্জার কাজ। কারিগররা রং-তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় সাজিয়ে তুলছেন ১৮ জোড়া রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা।
দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং গ্রাম পুলিশসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে, রাস উৎসব ও গঙ্গাস্নান উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় দর্শণার্থী, পুণ্যার্থী, ভক্তদের সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবাসহ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ বছর পদ্মা সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটবে। এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে বুকিংও শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটা রাসপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মন্ডল জানান, এ বছরও পূর্ণিমা তিথিতে হাজারো তীর্থ যাত্রীদের পদভারে মুখরিত হবে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। রাতভর চলবে নাম কীর্তন, ভাগবত পাঠ ও আরতি। এছাড়া, রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, আগামী শুক্রবার থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শত বছর ধরে চলে আসা রাস পূর্ণিমা ও পুণ্যস্নান। কুয়াকাটায় আসা পুণ্যার্থীরা হোটেল মোটেল ও রিসোর্টে রাতযাপন করলে ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস পূর্ণিমা ও পুণ্যস্নানে আসা পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.নাথুরাম ভৌমিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অধিবাসের মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যবাহী রাসলীলা উৎসব ও মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এ রাস উৎসব চলবে পাঁচ দিনব্যাপী। ইতোমধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে দোকানিরা বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছেন।পুরো মন্দির এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত বছর ধরে চলে আসা রাস পূর্ণিমা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুয়াকাটায় পুণ্যস্নানে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং গ্রাম পুলিশসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন।
