রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ হেরে মিরাজের দল গায়ানার বিদায়

অনলাইন ডেস্ক

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে জ্যামাইকা কিংসম্যান।

ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪ উইকেটে ২০৬ রানের পাহাড় গড়েছিল গায়ানা। তবে ২০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পিছপা হয়নি জ্যামাইকা। কেসি কার্টির দায়িত্বশীল ফিফটি এবং অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে অবিস্মরণীয় এক জয় ছিনিয়ে নেয় তারা।

বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে গায়ানা। দলীয় ২০ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারের উইকেট হারায় তারা। ৯ রান করেন মোহাম্মদ হারিস ও মাভেন্দ্র দয়াল দুইজনেই। এরপর শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ জুটি গড়েন। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৭ রান তুললেও পরে রানের গতি বাড়িয়েছেন তারা।

একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন হেটমায়ার। মাত্র ২০ বলে দেখা পান ফিফটির। হোপের আউটে ভাঙে ৯৬ রানের জুটি। ৩৩ বলে দুইটি করে চার ও ছকয় ৪০ রান করেন হুনাইন শাহর শিকার হন হোপ। তবে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসের শেষ বলে সেঞ্চুরি করেন হেটমায়ার।

৪৫ বলে ৪ টি চার ও ৮ ছক্কায় ১০২ রান করেন তিনি। এছাড়া ১৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। শেষদিকে ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত ছিলেন রোমারিও শেফার্ড। এদিন ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬ রান তোলে গায়ানা।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন মাজ সাদাকাত। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন এই পাকিস্তানি তরুণ তারকা। মিরাজের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৮ রান তোলেন তিনি। ইনিংসে তৃতীয় ওভারে প্রিটোরিয়াসের শিকার হওয়ার আগে ১৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রান করেন মাজ। এরপর কির্ক ম্যাকেঞ্জি দ্রুত রান তোলেন। ২০ বলে ৩৪ রান করে ইমরান তাহিরের শিকার হন তিনি। প্রথম ওভারে খরুচে বোলিং করলেও নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে দারুণ বোলিং করেন মিরাজ।

ইনিংসে ১২ তম ওভারে মিরাজকে জোড়া ছক্কা হাঁকান সাইম আইয়ুব। এরপর ৩৫ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন কেসি কার্টি। ১৭ বলে ২৩ রান করা সাইম আইয়ুবকে সাজঘরে ফেরান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। পাওয়েলের কাছে জোড়া ছক্কা হজম করলেও একই ওভারে রানআউটে কাটা পড়েন কেসি কার্টি। ৪০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

শেষ তিন ওভারে ৩৪ রানের প্রয়োজন ছিল জ্যামাইকার। ইমরান তাহিরের ওভারে চা-ছক্কাসহ ১৫ রান তোলেন রভম্যান পাওয়েল ও আন্দ্রে রাসেল। এরপর শামার জোসেফের করা ওভারে একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান রভম্যান পাওয়েল। শেষ ওভারে ৬ রান প্রয়োজন ছিল জ্যামাইকার। আন্দ্রে রাসেলকে আউট করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন রোমারিও শেফার্ড। তবে হাসান নওয়াজের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি দিন্দাল। পরের বলে ২ রান নিয়ে জ্যামাইকার জয় নিশ্চিত করেন হাসান নওয়াজ। ২ বলে অপরাজিত ৪ রান করেন তিনি। ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪০ রান করেন রভম্যান পাওয়েল। গায়ানার হয়ে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এদিন ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচায় কোন উইকেট পাননি মিরাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights