লাশের সারি মানবিক বিপর্যয়
প্রতিদিন ডেস্ক
তুরস্ক-সিরিয়ায় সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এতে আহত ছাড়িয়েছে ২৫ হাজার। সেখানে ধসে যাওয়া ভবনের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি আর আবহাওয়া এতটাই প্রতিকূল যে, উদ্ধারকাজে নেমে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো। হাড় কাঁপানো শীতও পড়েছে, বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া এত ঠান্ডা যে, জমে যাওয়ার মতো। উদ্ধারকারীদের সেখানে পৌঁছাতে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব। সেখানে এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তুরস্কের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ। বিদ্যুৎ নেই। ইন্টারনেট ও টেলিফোনে ঠিকমতো যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। প্রতিটি বহুতল ভবন যেন এখন ধ্বংসস্তূপের একেকটি পাহাড়। যত দেরি হচ্ছে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনাও তত কমে আসছে। মৃত ও আহতের সংখ্যা এত বেশি যে, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোয়ও আর রোগী নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন
সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তুরস্কের খারমানমারাসের গাজিয়ানতেপ শহর।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, তুরস্কে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার ৫৪৯। আহত হয়েছেন আরও ২২ হাজার ১৬৮ জন। ওরহান তাতার নামে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৭৭৫টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। এরদোগান ভূমিকম্পবিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। ৭০টি দেশ ও ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান এরদোগান। ভূমিকম্পে ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী, দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী, সামরিক ও বেসামরিক লোকজন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর জিন্দিরেসের আলী বাতেল বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা গেলেও তাদের বাঁচানোর মতো কেউ নেই।’ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ইদলিবে আল-শিফা হাসপাতালে নিয়োজিত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত চিকিৎসক শাজুল ইসলাম বলেন, সিরিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোয় আর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একজন চিকিৎসককে ৪০-৪৫ জন মুমূর্ষু রোগী সামাল দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যেসব রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি আমি তাদের ভেন্টিলেশনে নিয়ে যাচ্ছি। আর আগে থেকে ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের সরিয়ে রাখছি। আমরা আক্ষরিক অর্থেই হাসপাতালের ফটকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, কোন রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করব আর কোন রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করব না।’
