লুটে প্রকৃতির বিনাশ, পর্যটনের সর্বনাশ

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

পাহাড়ের বুক চিরে নেমেছে স্বচ্ছ জলধারা। নদীর বুকে বিছানো ধবধবে সাদা পাথর। দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়, কাছে সবুজের সমারোহ। কোথাও নীলাভ স্বচ্ছ জল, কোথাও সারি সারি চা-বাগান। আবার কোথাও বুক ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের সারি। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যের নাম সিলেট। জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল, লালাখাল, পান্তুমাই- প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রকৃতির আলাদা একেকটি ছবি।

তবে প্রকৃতি যেখানে দুই হাত উজাড় করে দিয়েছে, সেখানে মানুষের অব্যবস্থাপনা যেন সেই সৌন্দর্য কেড়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নির্বিচারে বালু-পাথর লুট, পাহাড় কাটা, যত্রতত্র প্লাস্টিক-বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ-সব মিলিয়ে মানুষই যেন ‘বারোটা বাজাচ্ছে’ প্রকৃতি-পর্যটনের। এরপরও পর্যটনকে ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা। আর এখনই প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী না হলে সর্বনাশ ঘটবে পর্যটনের। সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে থাকে জাফলংয়ের নাম। বালু-পাথর লুট, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে জাফলং এখন পার করছে দুঃসময়। জাফলংয়ের পরই পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠে সাদাপাথর। কিন্তু সেই সাদাপাথরে পড়েছে কালো ছায়া। বালু-পাথর লুটের কারণে ধলাই নদী হারিয়েছে স্বাভাবিক গতিপথ। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে জল-পাথরের বিছানাকান্দি। ভঙ্গুর যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথর লুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এখন মৃতপ্রায় পর্যটনকেন্দ্রটি। সিলেটের পর্যটনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। দেশের অন্যতম মিঠাপানির জলাবনও ভালো নেই। নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, পানিতে বর্জ্য ফেলা, শব্দদূষণ ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রীতিমতো হুমকিতে। পর্যটনকেন্দ্র লালাখাল ও পান্তুমাই রক্ষায়ও নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ। সিলেটের পর্যটনের বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা। বেহাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রেনের টিকিটসংকট ও আকাশপথে বেশি ভাড়ার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সিলেটমুখী হন না। পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘প্রকৃতি বিনাশ হলে পর্যটনের সর্বনাশ ঘটবে।’ সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights