লেবাননে নজিরবিহীন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে নজিরবিহীন মাত্রায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার অনেকগুলোই বৈরুতের এমন সব এলাকায় আঘাত হেনেছে, যেগুলোকে সাধারণত হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট এলাকা হিসেবে দেখা হয় না।

অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ জানান, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর এমন মাত্রার হামলা আর দেখা যায়নি। তার ভাষায়, এটি সত্যিই নজিরবিহীন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দিনভর দেশটির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যে সমঝোতা হয়েছে, তা ইসরায়েলকে কোণঠাসা করেছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে মিথ্যাবাদী ও ভীরু বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই লেবানন ফ্রন্ট আবারও ইসরায়েলের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। হতাহতের দিক থেকে এই ফ্রন্টে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ইরানের প্রতিরোধ অক্ষের প্রতি কোনো চাপ তৈরি ছাড়াই হঠাৎ যুদ্ধ শেষ করে দেওয়া ইসরায়েলে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো হবে। তারা ইরান ও লেবানন ফ্রন্টকে একসঙ্গে যুক্ত করে দেখার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েল চায়, লেবানন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত তাদের হাতেই থাকুক।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির কাঠামো চূড়ান্ত হলে ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার মতে, আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু হতে পারে।

যুদ্ধ চলাকালে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। এখন যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে তেহরান।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণালিটি আবার চালু করা হবে। যুদ্ধ শুরুর পর এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে।

তবে পাকিস্তান ও ভারত তাদের কিছু জাহাজের জন্য আলাদা সমঝোতা করেছে বলেও জানা গেছে। আজ থেকে শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে এবং প্রতিটি জাহাজকে ট্রানজিট ফি দিতে হবে। এই ফি ইরান ও ওমান যৌথভাবে নেবে বলে জানা গেছে। প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে, যদিও এখনো কেউ এই ফি পরিশোধ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights