লেবাননে বিস্ফোরণ: পেজারগুলো তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান ‘তৈরি করেনি’, তাহলে এলো কোথা থেকে?

অনলাইন ডেস্ক

হিজবুল্লাহর যোগাযোগ কাজে ব্যবহার করা পেজার যন্ত্রে লাগাতার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এমন বিস্ফোরণের পর এই যন্ত্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে লেবাননে বিস্ফোরিত হওয়া পেজার তাদের তৈরি করা নয় বলে দাবি করেছে তাইওয়ান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলো। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহারের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানি বিএসি এই পেজার বানিয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের নিশানা করে পেজার হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। হামলার এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ভূত সংকটের মধ্যে পড়ে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং–কুয়াং দাবি করেছেন, পেজার হামলার এ ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এসব পেজার তৈরি করেছে বিএসি কনসাল্টিং নামের হাঙ্গেরির একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে গোল্ড অ্যাপোলোর ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ অনুমতি থাকায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা তৈরি করলেও পেজারে গোল্ড অ্যাপোলোর নাম ব্যবহার করেছে। বিবিসির পক্ষ থেকে বিএসি কনসাল্টিংয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।

গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়ের বাইরে হসু চিং-কুয়াং সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি লেবানন থেকে আসা ছবিগুলো দেখুন। সেসবে (পেজারে) তাইওয়ানে তৈরি এমন কোনো চিহ্ন দেখতে পাবেন না। আমরা এসব পেজার তৈরি করিনি।’

লেবাননে হামলায় ব্যবহৃত পেজারগুলো বিএসি কনসাল্টিংয়ের তৈরি বলে জানিয়েছেন গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং-কুয়াং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিন বছর আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বিএসি কনসাল্টিং।

হসু চিং-কুয়াং বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রির জন্য গোল্ড অ্যাপোলোর কাছ থেকে প্রথমে পেজার কিনতে চেয়েছিল বিএসি কনসাল্টিং। কিন্তু প্রায় এক বছর পর প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রস্তাব দেয়। বিএসি কনসাল্টিং জানায়, গোল্ড অ্যাপোলো থেকে সরাসরি পেজার না কিনে তারা নিজেরাই তৈরি করবে; কিন্তু পেজারগুলো তৈরি হবে গোল্ড অ্যাপোলোর নামে।

হসু চিং-কুয়াং জানান, বিএসি কনসাল্টিং থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি খুবই অদ্ভূত ছিল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই অর্থ আসত মধ্যপ্রাচ্য হয়ে। কিন্তু এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights