লেবুর বাজার চড়া
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হওয়ায় রমজানের আগেই লেবুর চাহিদা বেড়েছে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রোজার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব কাঁচা সবজির দামই প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বুধবার সকালে শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি হালি লেবু ১২০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। গত সপ্তাহে যে লেবু ৪০ টাকা হালি ছিল, তা এখন ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে লেবু আগে ৩ টাকা পিস বিক্রি হতো, তা এখন ১৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় মানভেদে দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। অথচ মানসম্মত ও রসালো লেবু মিলছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। এছাড়া কাঁচা মরিচ, টমেটো, বেগুন ও পেঁয়াজের দামও প্রতিদিন বাড়ছে।
একাধিক ক্রেতা জানান, রমজানে ইফতারে শরবত, সালাদ ও বিভিন্ন খাবারে লেবুর ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বাড়তি। তাছাড়া লেবুর ভরা মৌসুম না হওয়ায় দাম বেশি। পেঁয়াজের দামও আড়তে প্রতিদিন বাড়ছে। আমরা বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করছি। আমাদের কিছু করার নেই। দাম কমাতে হলে আড়ৎ ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
তবে ক্রেতাদের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। একাধিক হাত বদলের মাধ্যমে দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ক্রেতারা আরও জানান, পাইকারি বাজারে যদি দাম বেশি হয়, তাহলে বিভিন্ন খুচরা বাজারে দামের এত পার্থক্য কেন? পাইকারি বাজারে বেশি হলে সব খুচরা বাজারে প্রায় একই দাম থাকার কথা। এতে বোঝা যায়, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কাজ করছে।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আসিফ আল আজাদ জানান, আমরা প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করছি। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারে দাম বেশি। স্থানীয় বাজারের বিক্রেতারা ঢাকা থেকে বেশি দামে কিনে আনছেন, ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখবে। না হলে পবিত্র এই মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।
