শত শত কোটি ডলারের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের হামলায় আমেরিকার কয়েকশ’ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য পেন্টাগন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করছে বলে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। ‘ফটো এভিডেন্স’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এখন এমন সব প্রমাণ সামনে আসছে যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজ এবং উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান সরাসরি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার চেয়ে আমেরিকার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (রাডার) এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীকে কার্যত পঙ্গু করে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন প্ল্যানেট ল্যাবসের মতো বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোকে যুদ্ধের অঞ্চলের কোনো ছবি প্রকাশ না করতে বাধ্য করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেন্টিনেল স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি এবং ওপেন সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে সৌদ আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২৭ মার্চের এক হামলায় আমেরিকার একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল অ্যাওয়াক্স বিমান এবং অন্তত সাতটি কেসি-ওয়ান থার্টি ফাইভ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু একটি অ্যাওয়াক্স বিমানের দামই প্রায় ৭২৪ মিলিয়ন ডলার, আর প্রতিটি আধুনিক রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারের প্রতিস্থাপন খরচ প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র একটি ঘাঁটিতে একদিনের হামলায় আমেরিকা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ হারিয়েছে।

ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে মার্কিন বিমান শ্রেষ্ঠত্বের দাবিও এখন হুমকির মুখে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে এবং ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এমকিউ-ফোর সি ট্রাইটন ড্রোন এবং প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস হওয়া অত্যাধুনিক এফ-থার্টি ফাইভ স্টিলথ ফাইটার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং স্বাধীনভাবে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, কুয়েত, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটিতে আমেরিকার ড্রোন বহর এবং কৌশলগত বিমানগুলো ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি ফুজাইরা বন্দরে জ্বালানি ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে আমেরিকার প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ভস্মীভূত হয়েছে। ইসফাহানে একটি ব্যর্থ অভিযান শেষে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই নিজেদের বেশ কিছু বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছে যেন সেগুলো ইরানিদের হাতে না পড়ে। সব মিলিয়ে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির চেয়ে যুদ্ধের ময়দানের প্রকৃত চিত্র অনেক বেশি ভয়াবহ ও ব্যয়বহুল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights