শিল্প উদ্যোক্তা রাসেলের প্রযুক্তি –স্মার্ট অ্যাপস এর মাধ্যমে কালীগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ
আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহঃ
ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবার অ্যাপস’ এর মাধ্যমে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এস আর ফিলিং স্টেশনে ওই কার্যক্রমের সুচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। কালীগঞ্জের তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক রাসেলের প্রস্তুতকৃত অ্যাপসটির মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি করে ফিলিং স্টেশন গুলিতে তেল প্রদান কার্যক্রম চালানো হবে । প্রযুক্তি নির্ভর ওই অ্যাপস ব্যবহারে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন, সিন্ডিকেট, বৈষম্যদুর সহ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সম্ভব হবে।গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার এই অ্যাপসটির মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি শুরু হলে কিছু মোটরসাইকেল চালক অ্যাপসসের মাধ্যমে এক ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে অন্য ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে তারা ধরা পড়েন। পরে ক্ষমা চেয়ে প্রথমবারের মতো রক্ষা পান।
ওবায়দুল হক রাসেল জানান, তিনি একটি স্মার্টফোন অ্যাপস ডেভেলপ করেছেন। যার মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিতরনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল গুলি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসলে অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নাম্বার, ইঞ্জিন নাম্বার অথবা চ্যাসিস নাম্বার স্ক্যান করা হবে। এরপর তথ্য গুলো সার্ভারে সংরক্ষণ পূর্বক তেল প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশিত তেল প্রদানের পরিমাণ এবং পুনরায় তেল নিতে আসার পরবর্তী দিন ধার্য করা থাকবে। অ্যাপসটি একাধিক ফিলিং স্টেশনের সাথে সমন্বয় থাকবে। নিদিষ্ট দিনক্ষণের আগে অন্য কোন ফিলিং স্টেশনে গেলেও তেল পাবে না।
উদ্যোক্তা রাসেল আরও বলেন, বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যক্তি তেল নিয়ে মজুদ করছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছে। এই অ্যাপস ব্যবহার করলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।
তিনি বলেন,অ্যাপসটি সঠিকভাবে পরিচালনা হলে প্রকৃত গ্রাহকরাই তেল পাবে ও সংকট দূর হবে।
রাসেল জানান, তার অ্যাপসটি ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা উল্লেখ করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন। এ নিয়ে গত সোমবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর ঐদিন রাতে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ অ্যাপসটির কার্যক্রম শুরু করতে বলেন। ইউএনওর অনুমতি পেয়েই কাজটি শুরু করেছেন বলে জানান রাসেল।
