শুঁটকি পল্লী ছেড়ে পালাল খোকন রাজাকার, জেলেদের মিষ্টি বিতরণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনের দুবলার চর শুঁটকি পল্লীর স্বঘোষিত রাজা খাঁন শফিউল্লাহ খোকন (৭৩) ওরফে খোকন রাজাকার এখন সাম্রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত শুরু হওয়ায় খোকন রাজাকার শুঁটকি পল্লী ছেড়ে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আত্মগোপন করার খবরে দুপুরে দুবলার চরের জেলে-মহাজনরা মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল করে তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে করেছেন তারা। সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি পল্লীতে নিরিহ জেলে-মহাজনদের শোষণ করা খোকন রাজাকার খুলনার রূপসার দেয়ারা গ্রামের শহিদুল্লাহ খাঁনের ছেলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার রূপসায় রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে এলাকায় নারকীয় অত্যাতার-নির্যাতন চালায় রাজাকার কমান্ডার খোকন। ওই সময় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান ওরফে শ্যাম মল্লিককে গুলি করে হত্যা করেন খোকন রাজাকার ও তার সহযোগীরা। এছাড়া তাদের হাতে আরও দুইটি হত্যাকান্ডেরও ঘটনা ঘটে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খোকন দলবল নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর দেশে ফিরে খোকন রাজাকার খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় আত্মগোপন করেন। পরে সুন্দরবনে শুরু করেন কাঁচা ও শুঁটকি মাছের ব্যবসা। ২০০২ সালে দুবলার চরের নিরিহ জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকারদার ও ক্রসফায়ারে নিহত আরেক সন্ত্রাসী লিটুকে নিয়ে জেলেদের উপর হামলা চালিয়ে মেহেরআলীর চরে মাছের ব্যবসা দখলে নেয় খোকন রাজাকার। পরবর্তীতে দখলে নেয় আরেক চর আলোরকোল। সেখানে জেলেদের উপর অমানসিক নির্যাতন চালিয়ে ‘যখন যা খুশি’র রীতি রেওয়াজ চালু করেন খোকন রাজাকার। এতেকরে তিনি জেলেদের কাছে হয়ে উঠেন মূর্তিমান আতংক। এরপর ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা সাব-সেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হলে পুরো ফিশারম্যান গ্রুপসহ দুর্গম দুবলার শুঁটকি পল্লী দখলে নেয় খোকন রাজাকার। হয়ে যান কয়েক’শ কোটি টাকার মালিক।
মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান ওরফে শ্যাম মল্লিককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে সাইফুল মল্লিক গামা বাদী হয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাজাকার কমান্ডার খোকনসহ তিনজনের নামে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। যুদ্ধাপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তারা সম্প্রতি খুলনার রূপসা এসে সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান ওরফে শ্যাম মল্লিককে হত্যাকান্ডের স্বাক্ষী গ্রহণ করেন। এখবর জানতে পেরে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের দুবলারচর শুঁটকি পল্লীর সাম্রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান স্বঘোষিত রাজা খাঁন শফিউল্লাহ খোকন ওরফে খোকন রাজাকার।
মামলার বাদী সাইফুল মল্লিক গামা জানান, মামলা দায়ের হওয়ার আগে ও পরে বিভিন্ন সময় খোকন রাজাকার তাকে হত্যাসহ মামলায় ফাঁসানোর নানা হুমকি দিয়েছে। খোকন রাজাকারকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত শুরু হওয়ায় দুবলার চরের বহুল আলোচিত মৎস্য ব্যবসায়ী খোকন রাজাকার আত্মগোপন করেছেন। এতে জেলে ও ব্যবসায়ীরা দুবলার চরাঞ্চলে মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস করেছেন।
আত্মগোপনে থাকা খাঁন শফিউল্লাহ খোকন ওরফে রাজাকার খোকনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
