শুধু দক্ষ কর্মীতেই আগ্রহ

বিশেষ প্রতিনিধি
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ নর্থ মেসিডোনিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তার বাজার খুলে দিয়েছে। প্রায় সব খাতেই তারা কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। তবে কেবল দক্ষ কর্মীদের বিষয়েই তাদের আগ্রহ। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই সুযোগ পাবেন নতুন এই শ্রমবাজারে। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে হাতেকলমে পরীক্ষা করেই লোক নিতে চায় তারা।

ইতোমধ্যেই নর্থ মেসিডোনিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিও নিয়োগ দিয়েছে দেশটি। অবশ্য চুক্তির মেয়াদ শেষ না করে যেন কর্মস্থল ত্যাগ না করে সেই শর্তের বিষয়ে অনড় নর্থ মেসিডোনিয়ার কর্তৃপক্ষ।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুধু নর্থ মেসিডোনিয়া নয়, পুরো বিশ্বেই আধা দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের চাহিদা চলে যাচ্ছে শূন্যের কোটায়। এ জন্য এখনই নতুন করে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। দক্ষ কর্মী তৈরি ছাড়া বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি ভবিষ্যতে পড়তে পারে হুমকির মুখে।

সূত্র জানায়, নর্থ মেসিডোনিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরান দিমিত্রোভস্কির সঙ্গে স্থানীয় সময় সোমবার বৈঠক করেছেন নর্থ মেসিডোনিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের শ্রমবাজার চালু করতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী। এই বৈঠকেই বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল এসেছে। প্রায় সব সেক্টরেই শুধু দক্ষ কর্মীরা নর্থ মেসিডোনিয়ায় কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এ জন্য প্রশিক্ষণ সেন্টারগুলো থেকে লোক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে তারা। এর আগে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের ইমেজ সংকট একটা বড় সমস্যা। কাজ করতে আসা বাংলাদেশিদের মানসিকতার পরিবর্তন ও দেশপ্রেম প্রয়োজন। রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করার দুরভিসন্ধি বন্ধ করতে হবে। নিয়োগকর্তার সঙ্গে হওয়া চুক্তির মেয়াদ পূরণ না করে পালিয়ে অন্য দেশে যাওয়ায় নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশিদের ওপর ভরসা করতে চান না। ফলে কঠিন হয়ে যায় টেকসই একটি শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবাসীরা যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মেয়াদ পূরণ করে যাওয়া প্রয়োজন। না হলে অন্যদের জন্য সুযোগ নষ্ট হয়, নষ্ট হয় দেশের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার।

রাষ্ট্রদূত জানান, নর্থ মেসিডোনিয়া ছোট দেশ। তবে সুযোগ আছে। এখানকার লোকজন অন্য দেশে চলে যায়। তাই কর্মী প্রয়োজন হয়। এখানকার বেতন মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো। সঙ্গে খাবারের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে। কর্মপরিবেশও ভালো হয়। ঠিক কী পরিমাণ কর্মী লাগবে তা সুস্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে, তখন প্রচুর ফান্ড আসবে। অনেক নির্মাণকাজ হবে। তখন কর্মীর চাহিদাও আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights