শোকে স্তব্ধ হাদির গ্রামের বাড়ি, ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে শোক আর বেদনায় স্তব্ধ শহিদ শরিফ ওসমান হাদির গ্রামের বাড়ি। হাদি শূন্য বসতভিটায় ভিড় করছেন চেনা-অচেনা অসংখ্য মানুষ। শোকের মাতম চলছে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠির এসএস কামিল মাদ্রাসাসহ পুরো এলাকায়। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে না পারার আক্ষেপে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীর হৃদয়। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ বিচারের দাবি এলাকাবাসীর।

সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নলছিটি শহরের একটি টিনশেড ঘরেই ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন শরিফ ওসমান হাদি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাদির শৈশব-কৈশোর কেটেছে এখানেই। তার বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট এবং পরিবারের সবচেয়ে আদরের।

এলাকাবাসী জানান, ছোটবেলা থেকেই হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্ত কণ্ঠস্বর। ২০০০ সালে ঝালকাঠির নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেই ২০০৭ সালে দাখিল এবং ২০০৯ সালে আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে জেলা পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেন হাদি।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও গ্রামবাসীর কাছে হাদি শুধু একটি নাম নয়-চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি আদর্শ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি। তাই তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়ির সামনে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বর্তমানে নলছিটিতে থাকা তার বোন ও ভগ্নিপতি ঢাকায় চলে যাওয়ায় বাড়িটি পড়ে আছে নিঃশব্দ ও শূন্য।

শেষবারের মতো প্রিয় হাদিকে দেখতে না পারার বেদনায় কাতর ঝালকাঠিবাসী। বিপ্লবী এই তরুণের হত্যায় সারাদেশের মতো তার নিজ জেলাতেও তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছে শরিফ ওসমান হাদির প্রাণ। এলাকাবাসীর বিশ্বাস হাদির আদর্শ, সাহস আর কর্মের মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights