সংস্কৃতিতে কেউ শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়, বৈচিত্র্যই মানবজাতির আসল শক্তি : সংস্কৃতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি।

আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ কথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস’ উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ গণচীন দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাইয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘ডায়ালগ অব কাইন্ডেড স্পিরিট : চায়না-বাংলাদেশ স্কলার্স ডায়ালগ’ শীর্ষক এক বিশেষ বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণচীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব ইয়াও ওয়েন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফাটল সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে এই স্পষ্ট বার্তাই দেয় যে, সভ্যতার মাঝে কোনো সংঘাত নেই, বরং পারস্পরিক মেলবন্ধন ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমেই মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের আলোকে সমৃদ্ধ উন্নয়ন সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। এই লক্ষ্যে গণচীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’কে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। এই উদ্যোগটি সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনগণের সাথে জনগণের মেলবন্ধনকে অগ্রাধিকার দেয়, যা আমাদের নিজস্ব উন্নয়ন রূপরেখার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার চেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকে বেছে নিই।

বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ কোনো নতুন পরিচিত বন্ধু নয়। নদী, পাহাড় এবং হাজার বছরের অংশীদারিত্বের ইতিহাস আমাদের যুক্ত করে রেখেছে। প্রাচীন সিল্ক রোড থেকে শুরু করে মহৎ বৌদ্ধ ভিক্ষু অতীশ দীপঙ্করের আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান দুই দেশের গভীর সম্পর্কের চিরন্তন স্মারক। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এক অনন্য ‘ব্যাপক কৌশলগত সমবায় অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রী এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অতিথিদের নিয়ে চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য এবং চিত্রকর্মের ওপর আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন, যা এবং চিত্রগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি এবং বইয়ের প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেন।

সেমিনারে উপস্থিত সুধীসমাজ, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার প্রসার ও দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকার চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights