সখীপুরে বল সুন্দরী-ভারত সুন্দরী কুলের বাম্পার ফলন

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বল সুন্দরী ও ভারত সুন্দরী কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কুল চাষি ইলিয়াস আহম্মেদ। উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের নামদারপুর গ্রামে প্রায় তিন একর জমিতে গড়ে উঠেছে এ কুলের বাগান। বাজারে এ কুলের চাহিদা ও বাজার দর বেশি থাকায় এ বছর ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকার কুল বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় কুলচাষি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গাছের প্রতিটি ডালে ঝুলে আছে প্রচুর বল সুন্দরী ও ভারত সুন্দরী কুল। প্রতিদিন বাজারজাত করার জন্য কুল তুলছে শ্রমিকরা। প্রতিটি গাছে প্রায় দেড় থেকে দুই মন কুল ধরেছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ব্যাপক ফলন হয়েছে। যার পাইকারি বাজার মূল্য ৬০-৭০ টাকা কেজি। এছাড়া স্থানীয় হাট-বাজারে খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাইকারী কুল নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। বাগান থেকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় এবং ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন পিকআপ ভর্তি কুল যাচ্ছে।
প্রায় তিন একর জমিতে সাড়ে ১২ শত কুলের চারা লাগানো হয়েছে। প্রথমে নিজের জমি দিয়ে শুরু করলে পরবর্তীতে পার্শবর্তী জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু করে কুলের চাষাবাদ। এখন ওই এলাকায় চারটি বাগান গড়েছে তুলেছেন ইলিয়াছ আহম্মেদ। তিন বছর আগে এই কুল চাষ করার উদ্যোগ নেন তিনি।

স্থানীয় বিক্রেতারা বলেন, ভারত সুন্দরী ও বল সুন্দরী দুই জাতের বড়ই বর্তমান বাজারে ব্যাপক চাহিদা। আপেলের মত রং হয় তাই অনেকেই ভারত সুন্দরীকে বলে আপেল কুল। দেখতে যেমন অকর্ষণীয় খেতেও তেমন খুব মিষ্টি এবং সুস্বাধু।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ইলিয়াস আহম্মেদ বলেন, লেখা-পড়া শেষ করে করোনার সময় এই কুল চাষ করার উদ্যোগ নেই। দিনদিন বাগান বৃদ্ধি করছি। এ বছর যে পরিমান কুল আসছে তাতে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা বিক্রি করবো বলে আশাবাদী।

হাসান ইমতিয়াজ নামের একজন বলেন, আমি ঘাটাইল থেকে আসছি ইলিয়াস ভাইয়ের কুল বাগান দেখতে। ইলিয়াস ভাইয়ের মত এই বছর আমিও কুল চাষ করবো। সেই জন্যই বাগান দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছি। ওনার বাগানের ফলন দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হলাম।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মণ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সখীপুরে অনেক শিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তা আছে, তার মধ্যে ইলিয়াস আহম্মেদ অন্যতম। ভারত সুন্দরীর আরেক নাম থাই কুল। তার কুল বাগানে মাঝে মধ্যেই আমরা গিয়ে থাকি। এ বছর ওনার বাগানে ব্যাপক ফলন হয়েছে। আমাদের ধারণা তিনি এবছর অনেক লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights