সত্যিই কি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করছে ভারত, যা বলল ক্রেমলিন
অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও আমেরিকার চুক্তি নিয়ে ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। যদিও নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে এ নিয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারতের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
এদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা ভারত কি সত্যিই বন্ধ করছে? তা নিয়ে মুখ খুলেছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছে, “রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছ থেকে কোনও বিবৃতি শুনিনি।”
ফলত, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেলা কেনা বন্ধ করছে কি না, তা স্পষ্ট করে দিল্লির থেকে মস্কো কিছু জানতে পারেনি, বলে ভারতের বন্ধু রাশিয়া স্পষ্ট করেছে।
পেসকভ বলেন, রাশিয়া ভারতের সাথে তার সম্পর্ককে মূল্যবান বলে মনে করে এবং তার কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিকাশ অব্যাহত রাখবে।
তিনি জানান, “আমরা দ্বিপাক্ষিক মার্কিন-ভারত সম্পর্ককে সম্মান করি। তবে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে একটি উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিকাশকে আমরা কম গুরুত্ব দিই না।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা দিল্লির সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চাই।”
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক সাংবাদিকদের বলেন, “মস্কো এই বিষয়ে কেবল জনসাধারণের বিবৃতি দেখেছে, এবং পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয় তা আমরা দেখব।”
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে রুশ জ্বালানির ভালো চাহিদা রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, মূল্যছাড়ের সুবিধা নিয়ে ভারত রুশ অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতা হয়ে ওঠে। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যারা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা মূলত মস্কোর রাজস্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে এটি করে বলে জানায়। আমেরিকার যুক্তি ছিল, এতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। সেই জায়গা থেকে ভারত, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ক্ষুব্ধ হয় আমেরিকা। ফলত, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের পর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায় আমেরিকা। তবে এবার ভারতের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান, হিন্দুস্তান টাইমস
