সব রাজনৈতিক সংগঠন থেকে মুক্ত রাখতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সব রাজনৈতিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রত্যয়ী। এর জন্যই ক্যাম্পাসকে সব ধরনের রাজনীতিমুক্ত রাখা প্রয়োজন বলে জানান তারা।

গতকাল বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের পক্ষে আন্দোলনরত সব ব্যাচের শিক্ষার্থী নিরাপত্তাজনিত কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। ক্যাম্পাসের আশপাশের সব এলাকায় গত শনিবার রাত থেকে ক্রমাগত মাইকিং, শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি, নাম-পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘিœত হয় এমন সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমতাবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এমনকি বুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরেও শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুয়েটের ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাতেও কোনো শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করেননি। শতভাগ অনুপস্থিত। এই পরীক্ষায় ক্যাম্পাসে কোনোরূপ অবস্থান আন্দোলন ছাড়াই, কোনো বাধা ছাড়াই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র একজন বাদে সব শিক্ষার্থীই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আবারও সাফ জানিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের অবস্থান কোনো একক ছাত্ররাজনীতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, বরং বুয়েট ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের সব ছাত্ররাজনীতি ও সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। তারা বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বরাবরই একটি নিরাপদ এবং সুপ্ত ক্যাম্পাস চেয়ে এসেছে। যেখানে ক্ষমতাচর্চার লোভ-লালসার শিকলে জিম্মি হয়ে যাবে না সবার নিরাপত্তা, শিক্ষাঙ্গনের উপযুক্ত পরিবেশ। সুপ্ত নেতৃত্ব এবং নৈতিকতা বিকাশের সব উপাদান ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির উপস্থিতি ব্যতীতও গত কয়েক বছরে উপস্থিত ছিল। এতে সুপ্ত নেতৃত্বের চর্চায় শিক্ষার্থীরা তাদের উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে। তারা আরও বলেন, একটি রাজনীতিবিহীন নিরাপদ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য সারা দেশব্যাপী জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এবং সমাদৃত হয়েছে। বুয়েটে হিযবুত তাহরীরের তৎপরতা সম্পর্কে তারা বলেন, বর্তমানে হিযবুত তাহরীর নিয়ে কথা উঠেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয় বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। এদের কর্মকান্ড নিয়ে ডিএসডব্লিউ স্যার ও উপাচার্য স্যারকে জানানো হয়েছে। শিবিরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights