সার্ভার জটিলতায় চলছে বদলী বদলী খেলা
উজ্জ্বল রায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,নড়াইল
এলাম মাঠে একটু নামলাম খেললাম আবার খেলা দেখলাম এবং চলে গেলাম; এ যেনো বদলী বদলী খেলা….!! ৩ মাসের বদলী ৩ দিনের সুযোগে ২.৫ বা আড়াই দিনেই শেষ! প্রাথমিক শিক্ষকদের সারাবছর অপেক্ষার পর নীতিমালা অনুযায়ী জানু-মার্চ ৩ মাস বদলী চালুর নিয়ম থাকলেও এ বছর নির্দিষ্ট সময়ের একেবারে শেষ দিবসে ৩দিনের জন্য দেখা দিয়েছিলো কাঙ্খিত বদলী যা অনলাইন বদলী হিসেবে সমধিক প্রশংসনীয় “অনলাইন বদলী” নামে পরিচিত!! সিস্টেমটা প্রশংসনীয় হলেও ভোগান্তিটা অবর্ননীয়!! স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে প্রাথমিক শিক্ষায় এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়! কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এ সফটওয়্যারটি রিলিজ করার আগে শিক্ষকদের কষ্ট বা ভোগান্তির কথা মাথায় নেওয়া উচিৎ ছিলো। এ বছর (৩০-০১) ০৩দিন সময় দিয়েছে যার মধ্যে সার্ভার ওপেন হতে ১৪ ঘন্টা ২১ মিনিট পরে অর্থাৎ ৩০ তারিখ রাত ১২.০১ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২.২১ বেজে শুরু হয়ে ০১ এপ্রিল যথা সময় রাত: ১২ টায় ঠিক টাইমেই শেষ হয়। আর এই সময়ের মধ্যে সার্ভারের গতি-বিধি আর ভোগান্তি নিয়ে কি আর বলবো! সারাদিন শুধু ঘোরে আর ঘোরে; কখনো কখনো টাইম-আউট! এভাবেই চলতে থাকা অনলাইনে বদলী আবেদন যুদ্ধ নির্ধারিত সময়েই শেষ হয়েছে!! এই যুদ্ধে কেউ-ই পরাজীত হয়নি, শুধু পরাজয় হয়েছে শিক্ষকদের অধিকারের!! এই সময়ের মধ্যে সারাবছর অপেক্ষমান অনেক সম্মানিত শিক্ষক-ই আবেদন করতে পারে নি বলে মনে করি; বলে রাখি আবেদন করলেই যে বদলী হবে সেটা কিন্তু নিশ্চিত নয়, তবে আবেদন সাবমিট করতে পারলেই যেনো মনের শান্তি এই সুযোগটাও অনেকেই পাই নি! বিষয়টি দু:খজনক ও মোটেও শিক্ষক বান্ধব নয় বলে মনে করি। যোকোনো উদ্ভাবন-ই সুবিধাভোগীদের কথা বিবেচনা করে করা হয়, অনলাইন বদলীটাও শিক্ষকদের কল্যাণে হয়রানি, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য করা হয়েছে বলে মনে করলেও বাস্তবতা ভিন্নরুপেই প্রতীয়মান হচ্ছে!! অনলাইনের বদলীতে সংশ্লিষ্ট ইউইও/এইউইও কর্মকর্তারা কোথাও কোথাও শিক্ষকদের কাছে একাধীকবার অফলাইনে কাগজ পত্রও চাচ্ছে এমনকি বদলী প্রক্রিয়া শুরুর আগেও চাওয়া হয়েছে এবং বদলী প্রত্যাশী শিক্ষকরা তা বারবার যেয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। কথা হচ্ছে, অনলাইনের বদলীতে বারবার কাগজ পত্র চাওয়া কি হয়রানি নয়! যেখানে শিক্ষকের PEMIS আইডিতে সব তথ্য আছে এবং উক্ত কর্মকর্তারাই তা অনুমোদন করেছেন তাহলে বারবার কেন হার্ডকপি চাওয়া! হতে পারে এটা কর্তাব্যাক্তিদের আইটি অজ্ঞতা, তাই বলে শিক্ষকরা কেন হয়রানি হবে!! আবার দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতা অর্থ আর সুপারিশের জোড়ে কোথাও কোথাও অনলাইনের বদলী অফলাইনেও আদেশ করা হয়েছে।
এতে সাধারণ শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অধিকার থেকে, এভাবেই যদি পিছন দিয়ে অফলাইনে আদেশ করা হবে তাহলে কেন এই অনলাইন নামক নীতিমালা! শিক্ষকরা সারাবছর অপেক্ষমান থাকে বদলীর জন্য কিন্তু যেই কাঙ্ক্ষিত সময় আসে ঠিক সেই সময়েই দেখে পোস্টটি উধাও!! এটা কোনো ক্রমেই কাম্য নয়; এমনটা বন্ধ করে সকল শিক্ষকের অধিকার সমতা আনলেই তবে অনলাইন বদলী সফল ও স্বার্থকতা পাবে!!
এমতাবস্থায় অনলাইন বদলী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিনয়ের সহিত সুপারিশ ও পরামর্শ..
১। অনলাইন বদলী বিভাগ ভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন সিডিউলে চালু করলে সার্ভার ও কর্মকর্তাদের উপর চাপ কমবে।
২। জনবল অনুযায়ী সার্ভারের গতিসীমা ও ক্ষমতা বাড়াতে হবে!
৩। অন্ত: বদলী একবার বা এক সেশানের জন্য না রেখে সারা সারাবছর চালু রাখলে সার্ভারে চাপ কম থাকবে।
৪। অনলাইনে বদলীর কথা থাকলেও অফলাইনে বদলী করা হচ্ছে যা সাধারণ শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছে। এমনটা হওয়ায় অনলাইন বদলী বিতর্কিত হচ্ছে এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ সমালোচিত হচ্ছে। বদলী শুধুমাত্র অনলাইনে-ই হোক।
৫। অনলাইন বদলী শুধুমাত্র PEMIS তথ্যের আলোকে (কোথাও কোথাও অফলাইনে কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে) কম সময়ে কোনোপ্রকার হয়রানি ছাড়া সম্পন্ন করা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করি।
পরিশেষে কথা একটাই, এমনটা হলে অর্থাৎ অনলাইনে স্বচ্ছতা আর ভোগান্তি শেষ না হলে আসুন পুরনো পদ্ধতিতে ফেরা যাক, শিক্ষকরা মানষিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাক!!
