সিরাজগঞ্জে ৮টি দলের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ৬ জন প্রার্থী ও ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদে অংশগ্রহণকারী আটটি দলের ২০ জন এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২২ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি, বিএনএম, জাসদ, জাকের পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। অথচ এসব পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

ফলাফলে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬ শত ৭২ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২ শত ৮৬টি। ভোটের হার শতকরা ৭২.৩১ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর শাকিল জয় নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯ শত ৭১টি ভোট। জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১ শত ৩৯ ভোট, বিএনএম প্রার্থী সবুজ আলী নোঙ্গর প্রতীকে পেয়েছেন ৫ শত ৭১ ভোট, জাসদের সাইফুল ইসলাম মশাল প্রতীকে পেয়েছেন ৬ শত ৫ ভোট। আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর শাকিল জয় বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। অন্য তিনটি দলের প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫ শত ৭ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯ শত ৯১ ভোট। ভোটের হার শতকরা ৪৮.৮৩ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছা. জান্নাত আরা হেনরী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮ শত ৫৮ ভোট। জাতীয় পার্টির আমিনুল ইসলাম ঝন্টু লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫ শত ৮০ ভোট, জাকের পার্টির আব্দুর রুবেল সরকার গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৫ ভোট, তৃণমৃল বিএনপির সোহেল রানা সোনালী আঁশ প্রতীকে পেয়েছেন, ১ হাজার ৬ শত ৯৭ ভোট ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাদাকাত হোসেন খান বাবুল পেয়েছেন মাত্র ৮ শত ৪১ ভোট। আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছা. জান্নাত আরা হেনরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য চারটি দলের সব প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮ শত ৪৩ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১ শত ৯৬। ভোটের হার শতকরা ৪০.৭৮ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. আব্দুল আজিজ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬ শত ৪২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন সুইট ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৭ শত ৮ ভোট। জাতীয় পার্টির জাকির হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২ শত ৪৫ ভোট, বিএনএম পার্টির গোলাম মোস্তফা নোঙ্গর প্রতীকে পেয়েছেন ৯ শত ১৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬ শত ৮৫ ভোট। আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. আব্দুল আজিজ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য ২টি দল ও ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪ শত ৪০ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৭ ভোট। ভোটের হার শতকরা ৫২.৭৬ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ১৫ ভোট। জাতীয় পার্টি হিলটন প্রামানিক লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮ ভোট, জাসদের মোস্তফা কামাল বকুল মশাল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯ শত ৬৪ ভোট। আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য ২টি দলের প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬ শত ৬১ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪ শত ২০। ভোটের হার শতকরা ৩৯.০৬ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল মমিন মন্ডল নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৪ শত ২২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১ শত ৮৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ মামুন কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ২ শত ভোট, জাতীয় পার্টি ফজলুল হক লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ২ শত ৬৯ ভোট, বিএনএম প্রার্থী আব্দুল হাকিম নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ২ শত ১৩ ভোট ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নাজমুল হক গামছা প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ শত ৩৩ ভোট। আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল মমিন মন্ডল বিজয়ী হয়েছে। আসনটিতে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য ৩টি দল ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩ শত ৭৭ জন। নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে ১লাখ ৫৭ হাজার ৩ শত ৭৫ ভোট। ভোটের হার শতকরা ৩৫.০১ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চয়ন ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৮ শত ৯০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী হালিমুল হক মিরু ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৬ শত ৭৬ ভোট, জাসদের প্রার্থী মোজাম্মেল হক মশাল প্রতীকে পেয়েছেন ৯ শত ৫২ ভোট, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সোনালী আঁশ প্রতীকে ৩ শত ৭৮ ভোট, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৭ শত ৭ ভোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পাটির প্রার্থী রেজাউর রশিদ খান হাতুড়ী প্রতীকে পেয়েছেন ৩ শত ৮ ভোট ও বিএনএম প্রার্থী মো. শামীম নোঙ্গর প্রতীকে পেয়েছেন ২ শত ২১ ভোট।
আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চয়ন ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য ৬টি দলের প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জেলার ৬টি আসনে ৩১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ২২ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights