সিলেটে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কোরবানি

সিলেট ব্যুরো

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে কোরবানির ব্যস্ততা। প্রথম দিনে কসাই না পাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে যারা কোরবানি দিতে পারেননি, তাদের অনেকেই শুক্রবার (২৯ মে) সকালে পশু কোরবানি করছেন। সকাল থেকেই নগরীর সাদারপাড়া, উপশহর, শিবগঞ্জ, সুবিদবাজার, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের দৃশ্য দেখা যায়।

শুক্রবার (২৯ মে) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বাসাবাড়ি ও নির্ধারিত স্থানে গরু ও ছাগল কোরবানি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরীর অনেক বাসিন্দারা। কোথাও পরিবার-পরিজন মিলে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা করছেন, আবার কোথাও কসাইদের সহায়তায় চলছে পশু প্রস্তুতের কাজ। অনেক এলাকায় প্রথম দিনের তুলনায় আজ তুলনামূলক স্বস্তিতে কোরবানি সম্পন্ন করতে দেখা গেছে।

নগরীর সাদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা লাহিন চৌধুরী জানান, ঈদের প্রথম দিনে অতিরিক্ত চাপ থাকায় কসাই সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে অনেকে পরের দিন কুরবানি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বালুচরের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই ঈদের দ্বিতীয় দিনে কো রবানি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে এবং এবারও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।

কসাই আব্দুল জলিল জানান, ঈদের দিন শহরে ৬টি গরু কেটেছি পৃথক সময়ে। ঈদের দিন ঝামেলা থাকে বেশী। তবে ঈদের পরের দিন অনেকটা ঝামেলা কম থাকে।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, কুরবানির সময় থাকে তিন দিন। আরবি হিজরি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি করা যায়। ফলে কোনো কারণে ঈদের দিন কুরবানি সম্ভব না হলে পরবর্তী দুই দিনেও কুরবানি আদায় করা বৈধ।

এদিকে বরাবরের মতো এবারও সিলেটের বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসেছেন মৌসুমি কসাই হিসেবে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের জন্য তারা সিলেটে অবস্থান করে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার মাঝারি ও বড় আকৃতির একটি গরু প্রস্তুতে কসাইরা মজুরি নিচ্ছেন প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ছাগল প্রস্তুতে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এলাকাভেদে ও পশুর আকার অনুযায়ী মজুরিতে ভিন্নতা দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights