সীমানা নির্ধারণে আসছে আইন

গোলাম রাব্বানী

জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এ ছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে সংস্কার কমিশনের। তবে সরকার এ বিষয়ে একমত হলে নতুন আইন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনও বিদ্যমান সীমানা নির্ধারণ আইনের সংশোধন প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইসি সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনে বলা হয়- নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সংশোধিত আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অনুসরণীয় নীতিমালার আলোকে, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা। আশু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় যথাযথ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন করার কথাও বলেছে সংস্কার কমিশন। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে- আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাক্টিস অনুযায়ী ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে একটি আলাদা সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন করতে সংবিধান সংশোধন করা; আলাদা কমিশন গঠন না করা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচন কর্মকর্তা, ভূগোলবিদ, মানচিত্রকার, পরিসংখ্যানবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ এবং জনসংখ্যাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। কমিশন এ কাজে দেশি ও বিদেশি যে কোনো ব্যক্তির বা সংস্থার সহায়তা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে- ক. পল্লী এলাকার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কোনোভাবেই বিভক্ত না করা। খ. পার্বত্য এলাকার তিন জেলাকে তিনটি সুরক্ষিত সংসদীয় আসন হিসেবে বিবেচনা করা। অন্যান্য জেলায় যেখানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস আছে, সেগুলোতে ওই জাতিগোষ্ঠীকে বিভক্ত না করে, অর্থাৎ একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করে একই সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত করা। গ. মেহেরপুর, পিরোজপুরসহ ছোট জেলাগুলোর জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি আলাদা জনসংখ্যা কোটা বিবেচনা করে +/-১০% এর অধিক বিচ্যুতি না করে ওইসব জেলার সীমানা নির্ধারণ করা। বৃহত্তর জেলার জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি আলাদা জনসংখ্যা কোটা বিবেচনা করে +/-১০% এর অধিক বিচ্যুতি না করে ওইসব জেলার সীমানা নির্ধারণ করা। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এ বিচ্যুতি ২৫% এর অধিক না করা। কমিশনের নতুন প্রস্তাবনার কারণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা। কারণ আবারও যদি সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক হয়, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা একটি বড় অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হতে পারি। এ ছাড়াও অতীতের ন্যায় নির্বাচন কমিশন ভুল করলে, নাগরিকদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। কারণ সীমানা নির্ধারণ আইনে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যদিও তা নিরঙ্কুশ নয়। পক্ষান্তরে প্রস্তাবিত বিশেষায়িত কমিটি ভুল করলে নাগরিকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকারের জন্য যেতে পারবে বলে মত দিয়েছে সংস্কার কমিশন। বিদ্যমান আইনের সংশোধনীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আইন পরিবর্তনের জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি একটা জটিল প্রক্রিয়া। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন সংশোধন হলে আমরা (সীমানা নির্ধারণে) ব্যবস্থা নেব। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনসংখ্যার বিষয়, ভৌগোলিক অবস্থা, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের সুবিধাঅসুবিধা দেখে তা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights