সুবর্ণচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ
মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ সুবর্ণচরে তুচ্ছ ঘটনায় যুবকে মারধর করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চর জব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কবির হোসেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৭ (শুক্রবার) জুন সুবর্ণচর উপজেলার ১ নং চরজব্বর ইউনিয়নের চর রশিদ কলারহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে রাস্তার উপর।
আহত কবির হোসেন চর রশিদ গ্রামের মতু আলেকদারের বাড়ীর আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
হামলাকারিরা হলেন, মোঃ আমির হামজা (২৬), পিতা- জহির আহম্মদ প্রকাশ জফু ডাকাত, ২। জহির আহম্মদ প্রকাশ জফু ডাকাত (৫৫), পিতা- আঃ ছাত্তার, ৩। আমির হোসেন প্রকাশ এরশাদ (৩০), পিতা- জহির আহম্মদ প্রকাশ জফু ডাকাত, ৪। মোঃ সোহাগ (২২), পিতা- আঃ খালেক, ৫। আমজাদ হোসেন (২০), পিতা- সাফিউল্যাহ, সর্বসাং- চর রশিদ, জফু ডাকাতের বাড়ী, ৩নং ওয়ার্ড, ১নং চরজব্বর ইউপি, থানা- চরজব্বর, জেলা- নোয়াখালীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন।
ভুক্তভোগী কবির হোসেন বলেন, বিবাদীগন এবং আমি একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ীর লোক হই। বিবাদীগন উশৃংখল, মারধরকারী, জোর জুলুমবাজ, ডাকাত ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হয়। চুরি ডাকাতি করা তাহাদের পেশা ও নেশায়। তাহারা দীর্ঘদিন যাবত এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত আছে। দেশের প্রচলিত আইন কানুন শালিস দরবার কিছুই মানেনা।
গায়ের জোর যখন যা খুশি তাই করে বসে। অপর দিকে আমি এলাকার নিরীহ শান্তি প্রিয় লোক হই। গত কয়েকদিন পূর্বে আমার মালিকীয় ছাগল বিবাদীদের ফসলী জমিতে যাইয়া ফসল খাইয়াছে মর্মে মিথ্যা অপবাদ দিয়া স্থানীয় খোয়াড়ে দেওয়ার চেষ্টা করিলে আমি আমি বিবাদীদের নিকট হইতে আমার ছাগল ছুটাইয়া নিয়া আসি। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া বিবাদীগন আমাকে হুমকী ধমকী দিয়া আসিতেছিল যে, যেখানে তাহারা আমাকে পাইবে সেখানে আমাকে খুন জখম করিবে। তারই ধারাবাহিকতায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময় আমি মোটর সাইকেল যোগে বাড়ী হইতে থানার হাট বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করিয়া বর্ণিত ঘটনাস্থলে যাওয়ামাত্র পূর্ব হইতে উৎফেতে থাকা বিবাদীগন এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদীগনসহ হাতে লাঠি সোটা কালো ষ্টীলের লাইট ইত্যাদি নিয়া বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধে আমার গতি রোধ করে। আমি প্রতিবাদ করামাত্র বিবাদীগন ক্ষিপ্ত হইয়া এলোপাথাড়ীভাবে কিল ঘুষি লাথি মারিয়া এবং পাশে থাকা ইটের টুকরা দ্বারা ঢিল মারিয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা ফুলা জখমসহ আমার ডান হাতের কবজিতে এবং ডান পায়ের হাটুর নিচে রক্তাক্ত ফাঁটা জখম করে। ১নং বিবাদী আমার পড়নের লুঙ্গির গোছায় গরু ব্যবসার জন্য থাকা নগদ ৫১ হাজার টাকা নিয়া যায়।
জহির আহমদ আমির হোসেন আমার গলা চাপিয়া ধরিয়া শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।
সোহাগ আমজাদ লাঠি দ্বারা আমাকে আমার মোটর সাইকের হইতে জোর পূর্বক নামাইয়া মোটর সাইকেলটি পিটাইয়া মোটর সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাংচুর করিয়া অনুমান ২২ হাজার টাকার ক্ষতি সাধ করে। আমি ডাক চিৎকার করিলে উপরে বর্ণিত সাক্ষীগনসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আগাইয়া আসিতে দেখিয়া বিবাদীগন এবং অজ্ঞাতনামা বিবাদীগন আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণে হত্যা করিয়া লাশ গুম করার হুমকী ধমকী দিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযুক্ত আমির হামজাকে মুঠো ফোনে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্বব হয়নি।
চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি দেব প্রিয় দাস বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
