সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাই আমাদের শপথ: কাদের

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে দলীয় শপথ ও প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবো, এটাই আমাদের শপথ।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন পরবর্তী সুধী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘চোর ও লুটেরা’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই চোরকে বাংলাদেশের মানুষ মানে? না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো শেখ হাসিনা। তোমাদের (বিএনপির) প্রধানমন্ত্রী কে? বাংলার মানুষ তো চোরা তারেককে মানেনি, মানবেও না। এদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।

সুধী সমাবেশে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলা হবে। সামনে লড়াই, ডিসেম্বরে ফাইনাল খেলা। জিততে হবে। জিততে পারবেন। কারণ, ওদের হাতে শোকের পতাকা। আমাদের হাতে শেখ হাসিনার বিজয়ের পতাকা। আমরা বিজয়ের সোনালি বন্দরে পৌঁছে যাবো।

বিরোধীদের প্রতি ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা আর ভিসানীতির কথা বলে। সিয়েরা লিওনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এ নিয়েও বিএনপিতে উল্লাস। আমি বলি- সিয়েরা লিওন যা করলো, সেটা তো তোমরাই করেছ। মাগুরা মার্কা নির্বাচন, এক কোটি ভুয়া ভোটার তালিকা তোমরাই করেছ।

বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সামনের নির্বাচনে যারা বাধা দেবে, তাদের ওপর কেন ভিসানীতি বা নিষেধাজ্ঞা আসবে না? আমরা তো অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এখানে বিদেশি বন্ধুরা আছে, আমরা কথা দিতে চাই- অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা করবো। এটাই আমাদের শপথ। আমাদের সিয়েরা লিওনের কথা বলে লাভ নেই।

তিনি বলেন, তাদের (বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে) দাবি একটাই, শেখ হাসিনাকে হঠাতে হবে। কোন দুঃখে? কেন পদত্যাগ করবেন শেখ হাসিনা? কোনো দেশের নির্বাচনী নীতিতে এটা আছে?

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা দিয়েছে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, একদিনে শত সেতু, একদিনে শত সড়ক। অপেক্ষা করুন, আরও দেড়শো সেতু আসছে। একদিনে উদ্বোধন হবে। তোমরা (বিএনপি) কী দিয়েছ? ঘোড়ার ডিম! ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখ। আন্দোলন তো নাই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ কত লোক! লোকে লোকারণ্য। পথে পথে মানুষ আর মানুষ। কত যে মানুষ! বাইরে কয়েকটা সমুদ্র। এখানে হয়ে গেছে মহাসমুদ্র। জনতার মহাসমুদ্র থেকে আমি গর্জন শুনতে পাই। গতকাল ছাত্রলীগের সমাবেশ দেখে ওদের (বিএনপি) ঘুম নেই। আজকের এ ছবি দেখলে মূর্ছা যাবে। এই মহাসমুদ্রের ছবি দেখলে ওরা হারিয়েও যেতে পারে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। এ দুটি বিষয় বাঙালি কখনোই ভুলবে না। তারা অমর থাকবেন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে রুট নিয়ে কত সমস্যা! সেখানে শেখ হাসিনা এ সমস্যারও সমাধান করে দিয়েছেন। এই উড়াল সড়ক, মেট্রোরেলের রুট, সবই তার দেখানো ডিজাইনে করা।

সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও অংশ নিয়েছেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান, সংসদ সদস্য হাবিব হাসান ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেতু সচিব মঞ্জুর হোসেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর প্রান্তের কাওলা অংশে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে সচিবের দেওয়া প্রেজেন্টেশন দেখেন ও ব্রিফ শোনেন। এরপর কাওলা প্রান্ত থেকে টোল দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠেন। প্রায় ১১ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে ১৪ মিনিটে পার হয়ে তিনি আগারগাঁওয়ে সুধী সমাবেশে পৌঁছান। সেখানে রাখা উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন এবং পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights