‘সে আমার স্ত্রীকে নিয়ে গেছে, পরে আমিও তার স্ত্রীকে নিয়ে এসে বিয়ে করেছি’

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর ওই প্রেমিকের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন এক যুবক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান মিয়া প্রায় ১৫ বছর আগে জহুরা আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে সংসার করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসান মিয়ার বাড়ির পাশের একটি এনজিওতে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার রাজু মিয়া। কাজের সূত্রে হাসান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রাজু মিয়ার সঙ্গে জহুরা আক্তারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরে পরকীয়ায় রূপ নেয় বলে দাবি করা হয়।

হাসান মিয়ার ভাষ্য, গত ৭ মে তার স্ত্রী জহুরা আক্তার রাজু মিয়ার সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, সে আমার স্ত্রীকে নিয়ে গেছে। পরে আমি তার স্ত্রীকে নিয়ে এসে বিয়ে করেছি। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তার প্রতিবাদ হিসেবেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসের ৪ জুন রাজু মিয়ার স্ত্রীকে তার তিন বছর বয়সী সন্তানসহ সাতক্ষীরা থেকে মির্জাপুরে আনা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তবে এ বিষয়ে রাজু মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ একে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অনেকের মতে, এ ধরনের ঘটনা পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনগত বা প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয় মহলে এখনও নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights