সোনারগাঁয়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, ধ্বংসের পথে যুবসমাজ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান এবং বিভিন্ন সময়ে মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বা সাজা শেষে বেরিয়ে এসে অনেকেই আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের ঘটনা এখন অনেকটাই সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মোগরাপাড়া, জামপুর, বৈদ্যেরবাজার ও কাঁচপুর ইউনিয়ন এবং সোনারগাঁ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাদকাসক্তদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সিলিং ফ্যান, বৈদ্যুতিক তার, লোহার গ্রিল এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও রেহাই পাচ্ছে না। কয়েকটি এলাকায় মসজিদের ভেতর থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য আসবাবপত্র চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, মাদকের কারণে পারিবারিক অশান্তি বাড়ছে। অনেক পরিবারে মাদকাসক্ত সন্তানদের কারণে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এতে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা, কান্দারগাঁও, ভবনাথপুর ও ভাটিবন্দর এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বালুমাঠের বিস্তীর্ণ এলাকাগুলো বর্তমানে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। অনেকেই গ্রেফতারের পর আবার ফিরে এসে আগের মতোই মাদক ব্যবসা শুরু করছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সচেতন মহল সোনারগাঁকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। থানা-পুলিশকে সহযোগীতা করতে হবে। মাদক নির্মূল করা কঠিন হলেও প্রতিটি এলাকায় দায়িত্ববানরা এগিয়ে আসলে মাদকের করালগ্রাস থেকে যুবসমাজকে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। আমাদের উচিত ঘরে ঘরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যারাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এলাকাবাসী উচিত তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া।
