স্থায়ীভাবে বন্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং, ১৮০০ শ্রমিকের মাঝে উদ্বেগ-হতাশা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৮০০ শ্রমিকের মধ্যে চরম উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে অনেক শ্রমিক এখন নতুন কর্মসংস্থানের সন্ধানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় আপোষ-মীমাংসা বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। গত রবিবার (২১ জুন) সকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, ‌‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয় যে, গত ১৬ জুন থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতনও পরিশোধ করা হবে। চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের বেসিক বেতনের সমপরিমাণ নোটিশ পে প্রদান করা হবে। এছাড়া চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের বেসিক বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের রিজাইন বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমাকৃত অর্থ পরিশোধ করা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সকল পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে।

কারখানার শ্রমিক বিল্লাল সোহাগ বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই কারখানায় চাকরি করতাম। দুই কারখানায় প্রায় ১৮০০ শ্রমিক কাজ করতেন। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পথে বসে গেছি। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না। শুনেছি ২৭ জুলাই পাওনা পরিশোধ করা হবে, তবে আদৌ পাব কি না তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল। এরপরও মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শত শত শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২১ জুনের চুক্তিটি শ্রমিকবান্ধব নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। কোন ধরনের অসন্তোষ যেন না হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের ন্যায্য পাওনা যেটা সেটা পরিশোধের ব্যবস্থা করতেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights