স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি আছে কি না, তদন্ত হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
শনিবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর-১ এ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি সময় নিয়ে করা হয়েছে। বিশেষ করে ভবনের দুই পাশের টিনশেড ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন জায়গায়ও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ডাটা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অনেকগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির লোকজন জানিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা একজনসহ আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সাংবাদিদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের একটি ঘটনা প্রিভেন্ট করা, এটি তো অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা দেখছি যে আমাদের পুলিশের এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কি না। যেহেতু এটি গভীর রাতের ঘটনা, আমরা দেখছি যে পুলিশ জানার পরও এখানে সময়মতো এসেছিল কি না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা আছে কি না। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাত পৌনে ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানার পর সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, সেসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। এ জন্য দারুস সালাম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজকের মধ্যেই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় রাজনৈতিক ইন্ধন বা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট—কোনো দল বা মত দেখা হবে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। বেআইনি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেউ করতে পারবে না। যারা এসব করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
