স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেন ‘ভুতুড়ে বাড়ি’

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চারপাশে বন-জঙ্গল, ভবনের দেয়াল ও ছাদজুড়ে জরাজীর্ণতার ছাপ। কোথাও বড় ফাটল, কোথাও খসে পড়েছে পলেস্তারা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। দেখলেই মনে হয় ভুতুড়ে বাড়ি। অথচ এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলছে মানুষের চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয়রা জানান, নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে জনবহুল সাতবাড়িয়া এলাকায় ১৯৮৪ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য স্থানীয় সাবদুল আলী (ছাদু মিয়া) তার নিজস্ব জায়গা দান করেন। পরে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার দশকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ভবনটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু জরাজীর্ণ ভবন ও অনিরাপদ পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল রয়েছে। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে পলেস্তারা। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে স্যাঁতসেঁতে ভাব। ভবনের চারপাশে গজিয়ে উঠেছে ঝোপঝাড় ও বন-জঙ্গল। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে পড়ে ভবনের ভেতরে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনাতেও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন চিকিৎসক ও কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষের পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা খাদিজা বেগম বলেন, আমি গরিব মানুষ। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখানেই চিকিৎসা নিতে আসতে হয়। কিন্তু সাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইয়াকুব আলী বলেন, এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নানা সমস্যার কথা আমাদের জানায়। আমিও বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। দ্রুত এখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দায়িত্বশীল চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এখানে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। এখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। হালকা বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়। চারপাশে বন-জঙ্গল থাকায় সাপের বসবাস রয়েছে। সাপের আতঙ্কের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব না হলে আপাতত অন্য কোথাও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে অন্তত এই এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights