স্বাস্থ্যসেবায় নারী চিকিৎসকদের অগ্রগতির বাধা চিহ্নিত করা সময়ের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

‘স্বাস্থ্যসেবায় লিঙ্গ বৈষম্য কমানো, বাংলাদেশে নারী চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি ও পেশাগত উন্নতির পথে বাধা চিহ্নিত ও সমাধান করা সময়ের দাবি।’

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের কনফারেন্স হলে ‘ব্রিজিং দ্য জেন্ডার গ্যাপ ইন হেলথকেয়ার : অ্যাড্রেসিং ডিসপ্যারিটিজ ইন ক্যারিয়ার প্রোগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসপিরেশন্স আমং উইমেন ইন হেলথকেয়ার প্রফেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে চমেকের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষকসহ প্রায় ৮০ জন অংশ নেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে কমিউনিটি পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি)। আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ রিসার্চ সোসাইটি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কেনিসা লিনটন, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. তৌহিদুল আনোয়ার। সেমিনারে গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা তুলে ধরেন ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের পিএইচডি গবেষক ফাতিমা কানিজ নয়ন।

সিপিডির সভাপতি মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী রক্তিম চৌধুরী তূর্য ও নাজিয়া তাহমিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি শারমিন সিরাজী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রভাষক আফনান ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ রিসার্চ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. মীর মুহাম্মদ ওমায়ের প্রমুখ।

চমেকের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও নেতৃত্বের জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি কম। উচ্চশিক্ষায়ও তারা পিছিয়ে আছেন। গবেষণাভিত্তিক এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কেনিসা লিনটন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার-চ্যালেঞ্জ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কর্মপরিবেশ নারীবান্ধব না হলে নারীরা পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়েন। তাই নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নেতৃত্ব-গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে হবে।

গবেষণাধর্মী উপস্থাপনায় ফাতিমা কানিজ নয়ন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নারীদের ক্যারিয়ার-বাধা, সীমাবদ্ধতা অনেক। মেডিকেলের উচ্চশিক্ষায় অনেকগুলো শাখা রয়েছে। গুটি কয়েক শাখায় নারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও সিংহভাগ শাখাতেই নারীদের অংশগ্রহণ নেই। এজন্য পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ বেশ কিছু কারণ দায়ী। এক সময় উচ্চশিক্ষায় নারী চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ একেবারেই হাতেগোনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, তবে তা আশাব্যঞ্জক নয়।

বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights