হবিগঞ্জে চলছে সরকারি গাছ কাটার মচ্ছব
জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ
কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধ ঘেঁষে চলছে সরকারি গাছ কাটার মচ্ছব। বিগত তিন মাস ধরে দিনরাতে গাছ কাটায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে নদীর পার। আর এতে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে নদীর তীরবর্তী মানুষ। হুমকিতে রয়েছে জীববৈচিত্র্যও। তবে কারা কীভাবে এই গাছগুলো কাটছে বা কে অনুমতি দিয়েছে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। সরকারি তিন দপ্তর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), পুলিশ ও বন বিভাগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রামশ্রী থেকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে পাউবো। কাজটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। মূলত কাজটি শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় গাছ কাটা। স্থানীয় লোকজন বলছেন, পাউবোর নির্দেশেই গাছ কাটা হচ্ছে। জামাল হোসেন নামে এক গাছ ক্রেতা বলেন, আমি যাদের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকায় গাছগুলো কিনেছি তারা জানিয়েছেন, তারা পাউবোর কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- খোয়াই নদীর তীরে যেন চলছে গাছ কাটার মচ্ছব। কেউ গাছ কাটছে আবার কেউ বা গাছের ডাল কাটছেন। অথবা কেউ কেউ গাছের কাটা মূল অংশ ট্রাক্টর দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। বিগত তিন মাস ধরে একের পর এক গাছ কাটা হচ্ছে। আর তার একমাত্র প্রমাণ হিসেবে রয়েছে কেটে ফেলা গাছের গোড়া। খোয়াই নদীর বাঁধের পাশে কয়েক হাজার গাছ দিনের আলোয় প্রকাশ্যেই এভাবে কাটায় পরিবেশবিদ ও সচেতনমহলসহ জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হবিগঞ্জ পাউবোর প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, গাছ কাটা রোধ করতে আমরা পুলিশ ও বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেননি। আমরা আন্তরিক হলেও কাউকে হাতেনাতে ধরতে পারছি না। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সি বলেন- পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু চিঠি দেওয়াই যথেষ্ট নয়। পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। তাই আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।
