হরমুজ অবরোধ সত্ত্বেও কয়েক মাস টিকে থাকতে পারবে ইরান: সিআইএ’র মূল্যায়ন

অনলাইন ডেস্ক
চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সত্ত্বেও ইরান অন্তত তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে এবং এরপরই কেবল গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে যেমনটা দাবি করেছেন, তার চেয়ে ইরানের সামরিক শক্তি অনেক বেশি রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সম্পর্কে অবগত অন্তত চারজন ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, মূল্যায়নে দেখা গেছে ইরানের যুদ্ধ-পূর্ব মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনও অক্ষত আছে।

একইভাবে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশও এখনও রয়েছে। অথচ গত বুধবারই (৬ মে) ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ‘প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে’ এবং তা নেমে এসেছে ‘১৮-১৯ শতাংশে’।

সিআইএ আরও জানিয়েছে, যেসব ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের প্রবেশপথে বোমা হামলা হয়েছিল, তার প্রায় সবই ইরান আবার চালু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করা হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় প্রস্তুত অবস্থায় থাকা যন্ত্রাংশ থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বরাবরই প্রশাসনের সরকারি বক্তব্যের তুলনায় বেশি সতর্ক ও বাস্তবধর্মী চিত্র তুলে ধরেছে। ট্রাম্প, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় সামরিক বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং অবরোধকে ইরানের অর্থনীতির জন্য ‘চূড়ান্ত শ্বাসরোধ’ বলে দাবি করেছেন। কিন্তু সিআইএর গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই দুই দাবির কোনোটিই পুরোপুরি সঠিক নয়।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলারের তেল রফতানি আয় হারাচ্ছে। তবে সিআইএর মতে, ইরান স্থলপথে তেল পাচারের মাধ্যমে সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে। ফলে তিন থেকে চার মাস টিকে থাকার যে হিসাব দেয়া হয়েছে, বাস্তবে সেটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সিআইএ’র ধারণার চেয়েও বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্ব এখন আরও বেশি কঠোর, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তারা বিশ্বাস করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ধৈর্যকে হার মানাতে পারবে এবং দেশের ভেতরে যেকোনো প্রতিরোধ কঠোরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে।’

সিআইএ আরও উল্লেখ করেছে, ইরান আবার বড় পরিমাণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করতে যে সময় লাগবে, তা এখন আগের চেয়ে কমে এসেছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থবহ কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগের সময়ও দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পরই পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। সেই থেকে প্রণালীটি কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে, যেখান দিয়ে সাধারণত বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শুরু করে। এই নৌ অবরোধের আওতায় সমুদ্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে দিক পরিবর্তন করতেও বাধ্য করা হচ্ছে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এসব পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights