হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় সোনার দামে বড় লাফ, বাড়ার শঙ্কা দেশে

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় উত্থান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭০ ডলারের ওপরে বেড়ে গেছে।বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও যে কোনো সময় বাড়তে পারে সোনার দাম।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে প্রণালি খোলার ঘোষণার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা আবার বিনিয়োগমুখী হয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন, যে কারণে দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় শুক্রবার ৯টা ৫০ মিনিটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭৯ দশমিক ৩০ ডলার বেড়ে ৪ হাজার ৮৬৭ দশমিক ৮২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হলে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরত দেখা যায়। যুদ্ধ বাড়ার আভাস দেখা দিলে সোনার দাম কমতে এবং বন্ধের আভাস দেখা দিলে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।

বিশ্ববাজারে সোনার দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। সম্প্রতি দেশের বাজারে কয়েক দফা সোনার দাম বাড়ানো অথবা কমানোর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৪৪৮ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। বর্তমানে এই দামেই দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ায় দেশের বাজারে যে কোনো সময় দাম বাড়ার ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

এ বিষয়ে বাজুসের এক সদস্য বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর পরই বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে যে হারে সোনার দাম বাড়ছে, তাতে দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হবে। দাম না বাড়ানোর কোনো বিকল্প থাকবে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর সোনার দামে বড় উত্থান হওয়ার পাশাপাশি তেলের বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতেও এর দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে।

একইভাবে মার্কিন তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুড’ এর দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের নিচে। গত মার্চ মাসের শুরুতে এটি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় ও মাসের শেষের দিকে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার খবরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্যারিসের সিএসি এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স-উভয় বাজারের সূচকই দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights