হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার প্রভাব আরও তীব্র হবে: বিশ্লেষক
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে। হরমুজ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বিশ্ব বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শিল্প খাতের নির্বাহী এবং বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও প্রকট হবে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বর্তমানে মজুত থাকা জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
শুক্রবার মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ কেপলার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়া ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো, এপ্রিল মাসে তা কমে দিনে মাত্র ১০ লাখে ব্যারেলে নেমে এসেছে।
কেপলার-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যদিও জুন মাস থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি শুরু হতে পারে, তবে বাজারের এই ভারসাম্যহীনতা পুরোপুরি কাটবে না। ফলে বিশ্ব তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং দেশগুলো মজুত জ্বালানি ও চাহিদাকে সীমিত করার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।’
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তেল খাতের একজন শীর্ষ নির্বাহী জানান, বাজারের ওপর এই সংকটের পূর্ণ প্রভাব এখনও পড়েনি।
শুক্রবার শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে এক্সন (Exxon)-এর সিইও ড্যারেন উডস বলেন, ‘যদি এই প্রণালী বন্ধ থাকে, তবে সামনে আরও কঠিন সময় আসছে।’
উডস আরও জানান, যুদ্ধের প্রথম মাসে ট্রানজিটে থাকা বিপুল সংখ্যক তেলবাহী ট্যাঙ্কার, বিভিন্ন সরকারের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড় এবং বিদ্যমান মজুত ব্যবহারের ফলে সরবরাহ সংকট এতদিন কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেই ‘বাফার’ বা আপদকালীন মজুত এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, গত ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোল মজুত ২২২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে বছরের এই সময়ে সর্বনিম্ন।
কেপলার এবং অন্যান্য শিপিং ডেটা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি জাহাজ পারাপার হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯০ ভাগ কমে গেছে। এখন প্রতিদিন ১০টিরও কম জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করছে এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন।’
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টিতে পারস্য উপসাগরে গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করে। যার ফলে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র : সিএনএন।
