হরমুজ মাইনমুক্ত করার চেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্র একা পারবে কি?
অনলাইন ভার্সন
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে যুদ্ধের ময়দান এবার আকাশ থেকে উত্তাল সমুদ্রে মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালীতে একযোগে কঠোর নৌ-অবরোধ এবং সমুদ্র মাইন পরিষ্কারের এক দুঃসাহসিক অভিযানে নামছে মার্কিন নৌবাহিনী। বিশ্লেষকরা একে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করছেন।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতির টুটি চেপে ধরা এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথকে সুরক্ষিত রাখা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে অর্থ প্রদান করে জাহাজ চলাচল করবে, তাদেরও মার্কিন বাধার মুখে পড়তে হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই অভিযানের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের তেলের দাম ও স্থিতিশীলতা।
তবে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এই কাজ মোটেও সহজ হবে না। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে দেড়শোর কাছাকাছি জাহাজ চলাচল করে, যার সবকটি থামানো বা তল্লাশি করা কার্যত অসম্ভব। তার ওপর রয়েছে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি। তেহরান তাদের শক্তিশালী ড্রোন, দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা এবং উন্নত প্রযুক্তির সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে এই অভিযানকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে প্রণালীতে এমন সব আধুনিক মাইন পেতে রেখেছে যা শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ একা সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলেই প্রশ্ন উঠছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন এবং মাইন-ক্লিয়ারিং হেলিকপ্টার রয়েছে, তবুও দীর্ঘ জলপথ স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নৌ-অবরোধ কেবল ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টাই নয় বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ কোন দিকে যাবে তার চূড়ান্ত নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ
