হামলার ক্ষণ গুনছে যুক্তরাষ্ট্র, শেষ মুহূর্তে ইরানকে চিঠি ভ্যান্সের
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তবে একদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ, অন্যদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চিঠি পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নতুন করে মার্কিন হামলা এড়ানোর মতো সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা। তবে চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনও শান্তিচুক্তির শর্ত নয়, বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কথা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে শিগগিরই দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ভ্যান্স। জুনে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনার মতো এবারও মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন তিনি।
রবিবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রেজাইয়ের কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার শুরুতেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার শর্ত দিয়েছেন ভ্যান্স। ইরান সম্মত হলে আগামী সপ্তাহেই কাতার অথবা তুরস্কে বৈঠক হতে পারে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দেশটির নেতারা প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তেহরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রেজাইয়ের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, রেজাইকে সরাসরি চিঠি দেওয়ার মধ্য দিয়ে তেহরানের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং দুই দেশের গভীর মতপার্থক্য আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প উপসাগরীয় মিত্রদের সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র মতো আরেকটি সংক্ষিপ্ত অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ভ্যান্সের চিঠি শেষ পর্যন্ত নতুন আলোচনা শুরু করতে পারবে, নাকি দুই দেশ আবার সংঘাতে জড়াবে- তা এখনও অনিশ্চিত। সূত্র: আল-জাজিরা
