হারসহ এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড হজম করল ব্রাজিল

অনলাইন ভার্সন

ঘরের মাঠে ফিফা প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে ব্রাজিল নারী ফুটবল দল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুন) ফোর্তালেজার অ্যারেনা কাস্তেলাও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট আটটি লাল কার্ড দেখানো হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে একমাত্র গোলটি আসে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড সোফিয়া উইলসনের শট ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ইসাবেলা চাগাসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে পড়লে। ম্যাচের শেষদিকে ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থার এলিয়াস এবং তার কোচিং স্টাফের তিন সদস্যকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি পাওলা সেবোলাদা লোপেজ। অতিরিক্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বিআ জানেরাত্তো এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর কিছুক্ষণ পর তার সতীর্থ তারসিয়ানে সোফিয়া উইলসনকে কনুই মারায় সরাসরি লাল কার্ড পান। খেলা শেষ হওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গেলে কেরোলিনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে হাততালি দেওয়ায় লুদমিলাকেও মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ মাঠে প্রবেশ করে এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ এমা হেইস বলেন, ব্রাজিলের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে এবং এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আমি কখনো ভুলব না। আমি কখনও এমন ম্যাচ কোচিং করিনি যেখানে আটটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এত বেশি খেলা বন্ধ ছিল যে মাঝে মাঝে বোতল উল্টানোর খেলাও খেলতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলে এসে ব্রাজিলকে হারানো খুবই কঠিন। দর্শকদের সমর্থন প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরিবেশ তৈরি করে। তবে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপে সবার আচরণের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড থাকা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার লিন্ডসে হিপসও ম্যাচের পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি আশা করি বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন হবে না। সেখানে আরও বেশি ফুটবল এবং কম বিতর্ক দেখতে চাই। ফুটবল সুন্দর খেলা, আর আজকের ম্যাচটি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক খেলা ছিল।

উল্লেখ্য, আগামী বছর প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ব্রাজিল। ৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ভেন্যু অ্যারেনা কাস্তেলাও আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক স্টেডিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মার্কিন মিডফিল্ডার লিন্ডসে হিপস বলেন, আমি আশা করি বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে এমন না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights