হারাতে বসেছে পুকুর জলাধার
সাইদ মেমন, বরিশাল
নদী-খাল-পুকুরের নগর হিসেবে পরিচিত বরিশাল হারাতে বসেছে চিরচেনা রূপ। একসময় নগরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুকুর-জলাশয় আগের মতো আর চোখে পড়ে না। বেশির ভাগ এখন শুধুই স্মৃতি। যেগুলো টিকে আছে অধিকাংশই পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। ফলে নষ্ট হচ্ছে নগরের সৌন্দর্য। সংকট দেখা দিয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির। বাড়ছে পরিবেশদূষণের ঝুঁকি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শাকিল জানান, ১৯৪০ সালের সিএস খতিয়ান অনুযায়ী মহানগরসহ সদর উপজেলায় ১০ হাজারের মতো পুকুর ছিল। ৮০ বছরের ব্যবধানে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি অস্তিত্ব হারিয়েছে। ২০১০ সালের মাস্টারপ্ল্যানের তথ্য অনুযায়ী, নগরে ৪৩৬টি পুকুরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে পাওয়া গেছে মাত্র ২৫০টির। পরিবেশবিদদের দাবি, এখন ২০০টিরও অস্তিত্ব নেই। যে কয়েকটি আছে তা-ও রয়েছে হারানোর শঙ্কায়। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা পুকুরের সিংহভাগ এখন ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। বেশির ভাগ ব্যক্তিমালিকানার হওয়ায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মরা পুকুরগুলো মানুষের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে মশা-মাছির বংশ বিস্তারের নিরাপদ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে; যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বরিশালকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে মহানগরের পুকুরগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পুকুর ভরাট বন্ধ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আইন প্রয়োগ এবং নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনে পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বরিশাল শহর মারাত্মক পানি ও পরিবেশসংকটে পড়বে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘জলাশয় সুরক্ষা আইন অনুযায়ী নগরে পুকুর ভরাট করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আনতে হয়। এটা না করে কৌশলে পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পুকুর হচ্ছে জলাধার। পুকুর ভরাট করার কারণে বর্তমানে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গভীর নলকূপ থেকে পানি ওঠে না। পানির স্তর ৫০ ফুট নেমে গেছে। পুকুরের পানি নষ্ট করায় গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে মানুষ। গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলন করায় বরিশালের ভূমি ১ সেন্টিমিটারের বেশি দেবে গেছে। এটা বরিশালের জন্য ভয়াবহ সংকেত। পুকুর রক্ষা ও গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ করতে হবে।’ বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, ‘ব্যক্তিমালিকানার পুকুর নিজেদের পরিষ্কার করতে হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের পুকুর-জলাশয় পরিষ্কার না রাখলে স্থানীয়রা সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিতে পারবে। এমন অভিযোগ পেলে পরিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
