হিজবুল্লাহর ‘নাইট হান্টার’ ড্রোন: নতুন চাপে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নতুন মোড় তৈরি করেছে হিজবুল্লাহর ড্রোন। ইরানের স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোন নিয়ে আলোচনা চললেও, এখন ইসরায়েলের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে হিজবুল্লাহর ছোট, বিস্ফোরকবাহী ‘নাইট হান্টার’ ড্রোন। এই ড্রোনগুলো তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ধকারেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ এখন ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ’ (FPV) ড্রোন ব্যবহার করছে, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এসব ড্রোনে থার্মাল সেন্সর থাকায় রাতেও মানবদেহের তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লুকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারে। এসব ড্রোন উড্ডয়নের সময় একটি তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে, যা পেছনে খুলতে থাকে। ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সংকেত বিচ্ছিন্ন করার প্রচলিত পদ্ধতি এখানে কার্যকর হয় না। এটি অসম যুদ্ধ কৌশলে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের ১১ জন সেনা নিহত হন, যার মধ্যে অন্তত ৭ জন ড্রোন হামলায় মারা গেছেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন চেল জানিয়েছেন, এই ছোট ক্যাটাগরির ড্রোনগুলো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে দ্রুত আঘাত বা নজরদারি চালানো যায়। তার মতে, হিজবুল্লাহর এই রাতের সক্ষমতা যুদ্ধের চিত্র বদলে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ড্রোন ব্যবহারের মাত্রাও বাড়বে।

এদিকে বাড়তে থাকা এ হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে। মাছ ধরার জাল বা ফুটবল মাঠের জাল ব্যবহার করে ড্রোন আটকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক জ্যামিং, নেট গান এবং স্থাপনা ঘিরে বিশেষ জাল স্থাপনের মতো নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights