হেলমেটের ক্যামেরায় ধরা পড়লো ছিনতাইয়ের দৃশ্য

কুমিল্লা প্রতিনিধি

স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন ইয়াসির। পথে যানজট। এই সুযোগে ছিনতাইকারীরা ইয়াসির ও তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু ইয়াসিরের হেলমেটে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছিনতাইয়ের সেই দৃশ্য। সেই ভিডিও দেখেই ছয়জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক হোসেন।

তিনি জানান, গত ৩০ মে দিবাগত রাত পৌনে ৪টার সময় জেড এম তৌকি ইয়াসির তার স্ত্রী কামরুন নাহার তন্বীকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়ক হয়ে মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন। তারা মহাসড়কের দাউদকান্দি থানাধীন গাজীপুরগামী পাকা রাস্তার মাথায় পৌঁছে যানজটের কবলে পড়েন।
এ সময় দুইজন ব্যক্তি ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের মোটরসাইকেলের পথরোধ করে চাবি নিয়ে নেন। এরপর তারা ইয়াসিরের মোটরসাইকেলের সামনে থাকা একটি গুগল পিক্সেল থ্রি মোবাইল ফোন ও তার একটি মানি ব্যাগ, যার মধ্যে নগদ টাকা, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড ও কামরুন নাহার তন্বীর থেকে নগদ ১,৩০০ টাকা, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং একটি ড্রোন ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় ইয়াসিরের মাথার হেলমেটের সাথে সিসি টিভি ক্যামেরা সংযুক্ত থাকায় ছিনতাইকারীদের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ ভিডিও’র সূত্র ধরে ছিনতাই কাজে অংশগ্রহণ করা মো. রাকিব ও মো. জয়কে তাদের নিজ বাসা দাউদকান্দির পশ্চিম মাইজপাড়া ও উত্তর সতানন্দি থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করে এবং লুণ্ঠিত মালামাল শান্ত, সোহাগ ও জাহিদ হাসানের কাছে আছে বলে জানায়। দাউদকান্দি থানা পুলিশের টিম তাদের দেওয়া তথ্যমতে আসামি শান্তকে তার দাউদকান্দির বলদাখালের বাসা থেকে গ্রেফতার করে এবং তার নিকট থেকে ছিনতাইকৃত ড্রোন উদ্ধার করে। পরে শান্তর দেওয়া তথ্যমতে অপর দুই আসামি সোহাগ ও জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়।

আসামি সোহাগের নিকট থেকে ছিনতাইকৃত গুগল পিক্সেল থ্রি মোবাইল ফোন ও জাহিদের বাসা থেকে ছিনতাইকৃত মানিব্যাগ, যার ভেতর থেকে ছিনতাইকৃত ১৩০০ টাকা, ভিসা কার্ড ও মাস্টার কার্ড উদ্ধার করা হয়। আসামি রাকিবের নামে পূর্বে ১৩টি মামলা, সোহাগের নামে ১১টি মামলা, জয়ের নামে ৭টি ও জাহিদের নামে ৩টি ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, এটি একটি বড় চক্র। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights