হ্যারি কেইনকে ডিফেন্সে নামানো ভুল ছিল, টুখেলের সমালোচনায় ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। সেই হারের পর দলটির কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে সমালোচনা চলছে। এবার সেই সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তার মতে, অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে ডিফেন্সে নেমে খেলতে বাধ্য করাই ছিল ইংল্যান্ডের বড় ভুল।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরুতে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে টুখেল রক্ষণ আরও শক্ত করতে পাঁচজন, পরে ছয়জন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে শুরু করেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। লিওনেল মেসির পাস থেকে এনসো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, এক সময় তিনি হ্যারি কেইনের সঙ্গে গলফ খেলেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের একজন দারুণ খেলোয়াড় আছে, হ্যারি। আমার মনে হয় তারা ভুল করেছে। তারা নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে রক্ষণে নামিয়ে দিয়েছে।’

এরপর নিজের মন্তব্য নিয়ে কিছুটা রসিকতাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ফুটবল সম্পর্কে আমি আর কতটুকুই বা জানি? কিন্তু তারা এগিয়ে থাকার পর নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে রক্ষণে নিয়ে গেল। আমার মনে হয়, তখন আরও আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত ছিল। অবশ্য আমি কোচ নই। তাই শেষ কথা বলছি না। তবে সিদ্ধান্তটি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। হ্যারি খুব ভালো একজন মানুষ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে টুখেল বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘এই বিষয়ে কি আপনার সাক্ষী ডোনাল্ড ট্রাম্প?’

এরপর নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘কোন পরিস্থিতিতে হ্যারি খুব বেশি নিচে নেমে খেলেছে? শেষ ত্রিশ মিনিটের কথা বলছেন? তখন আমরা নিচু অবস্থানে দাঁড়িয়ে দলগতভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকেই রক্ষণে নেমে আসতে হয়। হ্যারি একা নয়, পুরো দলই তখন একইভাবে খেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে রক্ষণ করি। কখনও ১০ জন, কখনও ১১ জন মিলে। প্রতিপক্ষ আমাদের চাপে ফেললে সবাইকেই নিজেদের অর্ধে নেমে আসতে হয়। প্রথমার্ধেও এমন মুহূর্ত ছিল। তবে তখন আমরা দ্রুত বেরিয়ে এসে পাল্টা আক্রমণ করতে পেরেছিলাম। শেষ ত্রিশ মিনিটে সেটা আর সম্ভব হয়নি।’

দলের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলারও কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন টুখেল। তার ভাষায়, ‘গত ছয় সপ্তাহে এই দল যে ঐক্য, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। রক্ষণেও সেটি দেখা গেছে। তবে শেষ দিকে আমরা অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলাম। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছি। এখানেই আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’

সেমিফাইনালে বিদায় নিলেও টুখেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ফুটবল কর্তৃপক্ষ এখনো তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে। আগামী ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত তাকেই দলের দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এদিকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে অন্তত তৃতীয় স্থান নিয়ে আসর শেষ করাই এখন টুখেল ও তার দলের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights