১৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ
মাহবুব মমতাজী
ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১৮ হাজার ৩৪৩ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। কোনো ধরনের যাচাইবাছাই ছাড়াই ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ ঋণ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ ঘটনায় দায়ী ১৪৮ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক বেশ কয়েকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেওয়া ব্যাংকটির সেই তদন্ত প্রতিবেদন এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব খুঁজতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ইতোমধ্যেই প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে অনুসন্ধান টিম। দুদক সূত্র জানায়, ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে ১৪৮ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশ ও সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া প্রাপ্ত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমিত হয় যে তারা আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর উদ্দেশে দেশত্যাগের প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকতে পারেন, যা তদন্ত কার্যক্রম ও অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, তাদের অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা একান্ত জরুরি। অন্যথায়, তছরুপ করা অর্থ গোপন, স্থানান্তর বা বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্র, ব্যাংক ও সাধারণ আমানতকারী অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এদিকে দুদকে পাঠানো ইউনিয়ন ব্যাংকের ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে সংঘটিত গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তালিকা।
