২০২৭-এ কাটবে সুপেয় পানির সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতিনিয়ত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর চাপ কমিয়ে নগরবাসীকে টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প’। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ মেগা প্রকল্পটির ভৌত কাজ এরই মধ্যে ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে পদ্মা নদী থেকে পানি এনে শোধনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য পানির চাহিদাও অনায়াসে মেটাতে সক্ষম।

ওয়াসা সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগরী এলাকায় দৈনিক পানির মোট চাহিদা আছে প্রায় ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। এ চাহিদা মেটাতে ওয়াসা মূলত গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে দিনে ৮ কোটি ৬৫ লাখ লিটার পানি তোলে, আর ভূউপরিস্থ উৎস থেকে শোধন করা হয় মাত্র ৯০ লাখ লিটার। অর্থাৎ নগরীতে বর্তমানে সুপেয় পানির দৈনিক ঘাটতি প্রায় পৌনে ৪ কোটি লিটার। এ ঘাটতি কাটাতে বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ভূগর্ভস্থ পরিবেশ রক্ষায় নদীর পানি শোধনের কোনো বিকল্প ছিল না। এ বাস্তবতায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের মার্চে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়। মূল প্ল্যান্ট থেকে হরিপুর হয়ে নগরী পর্যন্ত সাড়ে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রান্সমিশন পাইপলাইনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২১ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী-রাজশাহী মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় চলছে দ্রুত পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। পাশাপাশি নগরীতে ১৬ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও ১০ কিলোমিটারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এ প্রকল্পে ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত পানি শোধন প্রযুক্তি এবং চীনের উন্নতমানের জিংজিয়ান কোম্পানির দীর্ঘস্থায়ী পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অন্তত ৭০ বছরের আয়ুষ্কাল বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে। রাজশাহী ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কারিগরি দলের উপস্থিতিতে কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে এবং সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ অতিক্রম করেছে। ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য নাগরিক চাহিদা ও নগর সীমানার প্রসারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ প্ল্যান্ট ডিজাইন করা হয়েছে এবং সাড়ে ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে ২১ কিলোমিটার পাইপলাইন সম্পন্ন হওয়া এক বিশাল সাফল্য। তিনি আরও জানান, যদিও প্রকল্পের প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছিল চার বছর, তবে বর্তমান কাজের গতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই পানি শোধনাগারের শতভাগ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে আগামী বছর নগরবাসীর কাছে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী সানচিং জানান, মেগা প্রকল্পটি রাজশাহীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights