২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের ১০১ হামলায় নিহত ১৪ ইয়েমেনি
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০১টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, জুলাই থেকে দেশটিতে সৌদি আরবের চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮০টিতে।
বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সর্বশেষ হামলায় রাজধানী সানা, উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাউফ, হাজ্জাহ ও সা’দা, মধ্যাঞ্চলীয় আমরান, পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-মাহউইত এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ, দালি ও লাহিজ প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
প্রেসটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাউফ প্রদেশের একটি বাজার ও একটি জ্বালানি স্টেশনে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রদেশটির রাজধানী আল-হাজমের একটি জনবহুল বাজারে কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়। একই সময়ে কাছাকাছি আল-তায়সির জ্বালানি স্টেশনেও হামলা হয়। এতে দুই স্থানেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার শিকার এলাকাগুলো বেসামরিক স্থাপনা এবং সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার অপেক্ষায় ছিলেন, আর স্বজনদের খোঁজে ছোটাছুটি করছিলেন অনেক পরিবারের সদস্য।
স্থানীয় এক বাসিন্দা এসব হামলাকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সৌদি সেনাবাহিনীর পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এসব হামলা সৌদি আরবের দুর্বলতারই প্রমাণ। তিনি প্রাণঘাতী হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
ইয়েমেনের বিচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হামিদ আল-রাফিক বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনা ও জনবহুল বাজারে হামলা চালানো নিষিদ্ধ। তিনি ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
