৩৯ বছরেও তিনি তরুণ, খেলবেন ২০৩০ বিশ্বকাপেও!

অনলাইন ডেস্ক

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে এক মহাবিস্ময়। আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে যেভাবে জ্বলে উঠেছেন, তা দেখে অনেকেই তাকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার হিসেবে ভুল করছেন। স্প্যানিশ জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পর্যন্ত তার ফিটনেস ও ক্ষিপ্রতার প্রশংসা করে বলেছেন যে, মেসি এখন নতুনদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বর্তমানে পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা এই জাদুকর শুধু মাঠের ভেতরেই নয়, মাঠের বাইরের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণেই বয়সের বাধা জয় করতে পেরেছেন।

অনেকেই মনে করেছিলেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসির ক্যারিয়ারের গোধূলি শুরু হবে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন। মেজর লিগ সকার যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শারীরিকভাবে চাহিদাপূর্ণ একটি লিগ, তা মেসি নিজের খেলা দিয়েই প্রমাণ করেছেন। এমএলএসের কঠিন ভ্রমণ সূচি, কৃত্রিম টার্ফে খেলা এবং জলবায়ুর বৈচিত্র্যময় চ্যালেঞ্জ সামলে যেভাবে তিনি নিজেকে ফিট রেখেছেন, তাতে তার পেশাদারিত্বের চরম উৎকর্ষ প্রকাশ পায়। মায়ামিতে তার সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও স্বীকার করেছেন যে, মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম প্রমাণ করে যে এমএলএস কতটা মানসম্মত একটি লিগ।

মেসির এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুমন্ত্র নেই, বরং রয়েছে কঠোর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তার পরিবার, মার্কেটিং দল এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দল তাকে মাঠের বাইরের সব ধরনের চাপ থেকে মুক্ত রাখে, যাতে তিনি কেবল ফুটবলে মনোযোগ দিতে পারেন। এছাড়া, ইন্টার মায়ামির সহায়তায় বছরের শুরুতে পরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম প্রশিক্ষণ এবং ফিজিও থেরাপির সঠিক ব্যবহার তাকে বিশ্বকাপের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। তার খাদ্যভ্যাস পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্তগুলোও দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে এনেছে, যা তাকে বয়সের ভার থেকে মুক্তি দিয়েছে।

তার শারীরিক সক্ষমতার বিস্ময়কর দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তার দৌড়ের গতির পরিসংখ্যানে। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির সর্বোচ্চ গতি যেখানে ছিল প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি, এবারের বিশ্বকাপে তিনি ৩০.৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি তুলেছেন। ২০২২ সালের তুলনায় তার গতির এই পরিবর্তন শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে এক রহস্যময় উন্নতি, যা চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও বিরল। তার কোচ লিওনেল স্কালোনিও মনে করেন, মেসি আসলে তার সামর্থ্যের সেরা ব্যবহার করছেন এবং তিনি যখনই সুযোগ পান, তখনই মাঠে এক বিধ্বংসী মেশিনে পরিণত হন।

মেসির এই দুর্দান্ত পথচলা দেখে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তিনি কি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও খেলবেন? ৪৩ বছর বয়সে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব মনে হলেও মেসির সাম্প্রতিক ফর্ম ও প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে সবকিছুই যেন সম্ভব। তিনি নিজে অবসর না নেওয়া পর্যন্ত তাকে থামিয়ে দেওয়া কঠিন। আপাতত মাঠের ফুটবলে তার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ব, কারণ লিওনেল মেসি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের এক অমর মহাকাব্য।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights