৫ লাখ টাকায় চুক্তি, বোরকা পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের স্টোররুমে আগুন দেওয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক
পাঁচ লাখ টাকার ‘চুক্তিতে’ রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের স্টোররুমে আগুন দেন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ঘটনায় ওই কর্মী ছাড়াও স্টোর ইনচার্জ ও স্টোরকিপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর জোনের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার এ তথ্য জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাস্টাররোলভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম (৩০), স্টোর ইনচার্জ জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) ও মাস্টাররোলভুক্ত স্টোরকিপার হুমায়ুন কবির খান (৫৯)।

আগুনের ঘটনায় ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬২টি ও সন্ধান মেলেনি ৮৩টি ল্যাপটপের।

মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, শুক্রবার রাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে বোরকা পরে আগুন দেয়া হয়। এ ঘটনায় স্টোর রুমে থাকা ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ২৯টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার বিকেলে প্রথমে পরিচ্ছন্নকর্মী আসমাউল ইসলাম ও পরে তার দেয়া তথ্য মতে জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খান নামে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আসমাউল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজে স্টোররুমে আগুন দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

ডিসি মোস্তাক আরও বলেন, ‘তাকে আর্থিক প্রলোভন দেয়া হয়েছিল। পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, তদন্ত চলছে। গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights