৫৩ বছরের নির্বাচন পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে : চরমোনাই পীর

ভোলা প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ‌‘বিগত ৫৩ বছরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন চলেছে এই পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট, খুনি ও টাকা পাচারকারীর জন্ম হয়েছে। এই জন্য বিশ্বের ৯১ দেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতির নির্বাচন রয়েছে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে প্রতিটা ভোটারের মূল্যায়ন হয় এবং সংসদে প্রতিটি দলের অংশীদারত্ব থাকবে। তখন এককভাবে কেউ ফ্যাসিস্টের মতো দেশ পরিচালনার পরিবেশ পাবে না।’

আজ শনিবার বিকালে ভোলার চরফ্যাশনে ব্রজগোপাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, ‘স্বাধীনতার গত ৫৩ বছরে যারা এই সুন্দর দেশকে পরিচালনা করেছে তাদের মাধ্যমে আমরা কি পেয়েছি সেটি নতুনভাবে আর স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। গত ৫৩ বছরে আমরা দেখেছি রাস্তায় নামলে গুম হয়ে যায় আর ঘরে থাকলে খুন হয়ে যায়। আমাদের কষ্টার্জিত টাকাগুলো যারা ক্ষমতার মসনদে ছিল তারা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি করেছি প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ যে সংস্কার রয়েছে সেগুলো দ্রুত করে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সুন্দর একটি জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলবো আপনারা খুব সতর্ক অবস্থায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্ট ভারতে বিভিন্ন মেটিং করে ফেলেছে। মিটিং করে আমাদের দেশকে অশান্তি করার ব্যাপারে ছক তৈরি করেছে। আপনারা যদি নতজানু নীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করেন তাহলে ফ্যাসিস্ট আবারও সুযোগ পেয়ে যাবে। এজন্য বিএনপিসহ অন্যান্য যে সকল দল রয়েছে তাদের দেশ ও জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু ইউছুফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা দক্ষিণের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটিতে মাওলানা নূরউদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোরশেদকে সহসভাপতি ও মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights