৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং খামেনির বিদায় আয়োজন কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও পণ্ডিতেরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০টি দেশ ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে। দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশাল এই আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি কিছুটা পিছিয়ে কয়েক দিনব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দিকনির্দেশনা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সদর দফতর এই পুরো আয়োজন তদারকি করছে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরহুম নেতার মরদেহ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাগদাদ বা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকি শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং পরে নাজাফ ও কারবালা পবিত্র নগরীতে শোকমিছিল ও বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরের দিন অর্থাৎ ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। এই মহোৎসব ও রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে ইরানে বেশ কয়েক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরান প্রদেশে, ৬ জুলাই তেহরানের মূল জানাজার দিন দেশজুড়ে, ৭ জুলাই কোমে এবং ৯ জুলাই খোরাসান রাজাভি প্রদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, এই বিশাল জমায়েতে অংশ নেওয়া মানুষের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও পৌর বাস সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ধরনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না এবং অনুষ্ঠানটি কাভার করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন। ইরাকের সাথে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে সেখানেও একটি জাতীয় আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিদায় অনুষ্ঠানে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, আঞ্চলিক সংহতি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আনুগত্য প্রকাশের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights