অ ঈদে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
নীল সমুদ্রের ঢেউ, সবুজ পাহাড় আর শান্ত লেকের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অনন্য মেলবন্ধন চট্টগ্রামে। তাই যেকোনো উৎসব বা ছুটি পেলেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের বরণ করে নিতে বিভিন্ন পার্ক ও অ্যামিউজমেন্ট স্পটে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদারের কাজ। নতুন রঙে রাঙানো রাইড, বাড়তি বিনোদনের আয়োজন এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে আগত দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে থাকবে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রধান বিনোদনকেন্দ্র ‘চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা’। স্বল্পমূল্যের টিকিটের কারণে প্রতি ঈদেই এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বর্তমানে বাঘ ও হরিণসহ ৫৮ প্রজাতির প্রায় ৫২০টি পশুপাখি রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, এবারের ঈদের ছুটিতে এখানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, দর্শনার্থীদের বরণে আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অর্থাৎ অতিরিক্ত গরম বা বৃষ্টি না হলে ঈদের ছুটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৯০ হাজার লোকসমাগম হতে পারে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বর্তমান টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।
এ ছাড়াও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছুটির দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে পতেঙ্গা, পারকি, গুলিয়াখালী ও আকিলপুর সমুদ্রসৈকতে। পাশাপাশি ডিসি পার্ক, বায়েজিদ লিংক রোড, আউটার রিং রোড, মহামায়া লেক, জিলাপি পাহাড়, বাটালি হিল, ভাটিয়ারি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল) দেখতে ছুটির দিনগুলোতে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া হালিশহর ও কাট্টলী এলাকার সমুদ্রপাড় এবং কর্ণফুলী নদীর তীরেও ছুটির সময়ে মানুষের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বাড়ে। শহরের বাইরে আনোয়ারা পারকি বিচ, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া, সুপ্তধারা, সহস্রধারা, কমলদহ, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়ি ঝরনার রূপ দেখতে পর্যটকদের সমাগম ঘটে। অন্যদিকে, প্রকৃতি আর আধুনিক বিনোদনের মেলবন্ধনে ঈদের ছুটিকে রাঙাতে বাড়তি আকর্ষণ নিয়ে প্রস্তুত ফয়’স লেক কমপ্লেক্স। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে ইতোমধ্যে এটিকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সব বিনোদনকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএমপি এবং জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করব।
তিনি জানান, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সব বিনোদনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক এবং ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে শিশু ও মাতৃদুগ্ধ কর্নারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
